• ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
  • ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪
  • ৮ই জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯

একটা গল্প জীবিত হবার পর আগুন হয়ে গেছিল

‘মনটা খাঁ খাঁ করছে’—এটা একটা বাক্য। আমি গল্পটা এই বাক্য দিয়েই শুরু করতে চাই। কিন্তু তার আগে গল্পের সাথে সম্পর্ক নেই এমন ক’টা কথা বলে নেব। খেয়াল করা গেছে, কেউ যদি কোনো একটা লেখা দেখে এমন অর্থাৎ এ গল্পের প্রথমেই রচিত বাক্যের মতো, শুধুমাত্র একটা বাক্য। তবে তা পড়ার পর পর লেখক সম্পর্কে, লেখার সময়কাল সম্পর্কে, লেখাটির বিষয় সম্পর্কে একটা ধারণা করার চেষ্টা করা হয়। যেমন এই বাক্যটি পড়ার পর যা ধারণা হতে পারে তা হলো—লেখক এটা দিনের বেলা লেখেছেন এবং শীতকাল কল্পনা করতে পারেন না, কল্পনা করেন গ্রীষ্মকালের কথা। আমি যখন প্রথম বাক্যটি লিখলাম তখন কিন্তু রাত এবং গ্রীষ্মকাল নয়। শীত শীত ভাব এসেছে মোটামুটি। এরপর আবার যদি কল্পনা করতে বলা হয়, কেন এই খাঁ খাঁ বা হাহাকার তবে কল্পনা করবেন হয়তো—খাদ্য বা বসাত বা গাড়ি বা নারী শূন্যতার কথা। কিন্তু যা ভেবে লিখতে শুরু করেছি তা তেমন নয়। তা এমন—
মনটা খা খা করছে একটা গল্প লেখার জন্য। খা খা করার কারণ একটা কুকুর। যখন রাত মোটামুটি কাঁটায় চড়ে এগারোটার বারটা বাজিয়েছে তখন সাইকেলে ব্রেক কষে দাঁড়ালাম। ব্রিজের বাড়িপ্রান্তে। ব্রিজের ওপারে শহরিমা। মনটা খা খা করে উঠল তখনই, যখনই দেখা গেল একটা কুকুর বসে আছে ব্রিজের ফুটপাথে। আমার থেকে মোটামোটি ৫০-৬০ কলম দূরে বসে আছে কুকুরটা। দূরত্বের জন্য যে কলমের দৈর্ঘ্য এখন ব্যবহার করলাম সেই কলমটা দিয়েই এটা লেখা হচ্ছে। লেখা থামিয়ে এই ফাঁকে মেপেও নিয়েছি কলমটা। ৫ ইঞ্চি। এই কুকুরটাকে নিয়েই একটা গল্পের প্লট ফাঁদতে শুরু করলাম। কারণ জোছনার আলো, ব্রিজল্যাম্পের আলো আর রাতের কালো মিশে ফলমূলের রস দিয়ে তৈরি সিরাপের মতো হয়েছে। আলোর সিরাপ। আমি মুগ্ধ হয়েছি। সিরাপের মতো আলোর মধ্যে বসে আছে গল্পের প্লটের কুকুর।
কুকুরটা উঠে দাঁড়াল, পিছনের পায়ের ওপর দিক নিতম্বের কাছে মুখ দিয়ে চুলকাতে শুরু করল। আবার হঠাৎ পিছনের ভরে বসে অণ্ডকোষ আর তার চারপাশ চাটতে লাগল। এসব দিয়ে গল্প বেশ একটা ফেঁদে দিতে ইচ্ছা করল। কিন্তু পরক্ষণেই ভাবলাম কুকুর নিয়ে গল্প লিখব না। কুকুর নিয়ে কেন লেখতে যাব! সবুজ চাঁদের আলো পড়ে আছে ব্রিজের নিচেই, নদীর জলে। ঢেউয়ের সাথে চাঁদের আলো পিছলা-পিছলি খেলছে। একটা ঢেউয়ের উপর দিয়ে এক একটা খণ্ড আলো টপকে গিয়ে পড়ছে আরেকটা টেউয়ের ওপর। একটু দূরের দিকে তাকালেই এসব দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। একটা সিগারেট ধরানো যাক। কুকুরের দিক থেকে মুখ সরিয়ে সিগারেট ধরানো গেল। কুকুরটা উঠছে, বসছে, পা দিয়ে মুখ চুলকাচ্ছে, মুখ দিয়ে পা, গা চুলকাচ্ছে। আমার সাইকেলটা হেলান দেয়া আছে ফুটপাথেই। সিগারেট জ্বলে উঠল বেশ জৌলুস নিয়ে। গল্প লেখার মেজাজ জমে উঠল।
কিন্তু কুকুরটাকে নিয়ে গল্প লেখার ইচ্ছেকে বাদ দিতে চাচ্ছি। চাঁদ বেশ আলো দিচ্ছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা। রাত তেমন বেশি হয়নি। কিন্তু দেশে যখন জরুরি অবস্থা চলে তখন রাত তাড়াতাড়ি বেশ ঘন হয়ে ওঠে। মানুষজন তেমন নাই। মাঝে মাঝে সোনামসজিদ থেকে পাথর বোঝায় করা ট্রাক ভোঁ…গোঁ…ওঁ…ওঁ করে চলে যাচ্ছে। ট্রাক একবারে কাছ দিয়ে যখন যায় তখন বিরক্ত লাগে কিন্তু যখন নির্জন রাতে দূর থেকে একই গতিতে আসার শব্দ শুনতে পাওয়া যায় সেটা খুব ভাল লাগে এবং যখন দূরে চলে যায় ক্রস করে তখনও শুনতে ভাল লাগে। কুকুরটা একফাঁকে মুতে এলো একটু দূরে গিয়ে একটা ল্যাম্পপোস্টের গায়ে। কুকুর নিয়ে গল্প লেখার চিন্তা যখন বাদ দিয়েছি তখন দেখলাম কুকুরটা সে স্থান ত্যাগ করে আরো একটু দূরে গিয়ে বসল। কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ একটা শব্দ শোনা গেল—‘ক্রুহ্ ক্রউউউহ্।’ শব্দের পথে, আলোক বেগে তাকাতেই দেখা গেল একটা পাগল। এই পাগলটাকে নিয়ে একটা গল্প লেখা যেতে পারে। আমি তার দিকে মনোযোগি হলাম। ‘ক্রুহ্ ক্রউউউহ্’ করে আবার শব্দ করল পাগলাটা। সে আমার কাছে থেকে ৭০ হাত আর কুকুরটা থেকে হয়তো ৪০ হাত দূরে রয়েছে। এ লোকটাকে এর পূর্বে দেখেছি বলে মনে পড়ছে না। সে ‘ক্রুহ্ ক্রউউউহ্’ শব্দ করেছে কেন বুঝতে পারা গেল আরো একটু এগিয়ে এলে। সে কুকুরটাকে ডাকছে। কুকুরটাকে ডাকার পর সে একটা পাউরুটিকে কয়েক টুকরো করে রাখে। ৭০ হাত আর ৪০ হাত পরস্পরের দিকে এগিয়ে প্রায় ৫০ হাতে রূপান্তর হয়েছে। কুকুরটা তার দিকে একবার তাকিয়ে পাউরুটি খেতে শুরু করলে পাগলটা তার শিশ্ন বের করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কুকুরটার পিঠে পেশাব করে। কুকুরটা পালিয়ে যাচ্ছে না বা সরে যাচ্ছে না। ধারণা করলাম, কুকুরটা সম্ভবত অভ্যস্ত এ ব্যাপারে। হয়ত এর পূর্বেও এমন কাহিনি করেছে এই পাগল, হয়ত নিয়মিতই এই গল্প ঘটে। আমার মনে হলো —বেয়াদব পাগল, একে নিয়ে গল্প আমি লিখব না।
তবে কী গল্প লেখতে পারব না আজকে। অথচ গল্প লেখার জন্য আমার মন খা খা করছে। আমি মূল ব্রিজে না উঠে পাশের রাস্তা দিয়ে নীলকুঠির মাঠের দিকে যাবার চিন্তা করলাম। যদি সেদিকে গিয়ে কোনো একটা গল্প লেখার বিষয় পেয়ে যাই। বেশ আনন্দ হবে।
সাইকেল চালাতে শুরু করলাম। প্রচুর জোছনা পড়েছে চারদিকে। গাছের ওপর, ধুলোর রাস্তার ওপর, ধান খেতের ওপর, দীঘিটার ওপর নিঃশব্দে পাঠ হচ্ছে জোছনার নামতা। রাত বেড়েছে বেশ। সাইকেল চালাতে চালাতে দেখছি এসব। ধুলোগুলো জোছনা খাচ্ছে, ধানগুলো জোছনা খাচ্ছে যেমন একজন শিশু তার মায়ের বুক হতে দুধ টেনে নেয় নিঃশব্দে। আমারও জোছনা খেতে ইচ্ছে করে। জিভ বের করি। নাক দিয়ে টেনে নিতে চাই। গা দিয়ে পরশ পাবার চেষ্টা করি। হয় না। জোছনার কোনো স্বাদ পাই না জিভে। কোনো গন্ধ নাকে লাগে না, গায়ে কোনো পরশ পাচ্ছি না। অথচ মন আমার মরিয়া হয়ে উঠল জোছনা-দরিয়ার স্বাদ, গন্ধ, পরশ পেতে। ভীষণভাবে পিপাসার্ত হয়ে উঠি। জীভ বের করে দৌড়ায়, নাক দিয়ে গভীর শ্বাস নিই জোছনা পিপাসিত প্রাণ জুড়াতে। প্রাণ ভরে না। স্বাদ-গন্ধ পাই না, কিছু পাই না। শিশুর মতো কান্না পেয়ে যাচ্ছে আমার। আমি সাইকেলটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। সাইকেলটাও জোছনা পান শুরু করেছে। আমি হিংসাতে সাইকেলটাকে একটা ধাক্কা দিই। ঝনঝন করে পড়ে সাইকেল। সবকিছু সচেতন হয়ে ওঠে সাইকেল পতনের শব্দে। ধানগুলো, ধুলোগুলো, দীঘির জলগুলো। তাদের জোছনা-পানে ব্যাঘাত ঘটেছে যেন, এমনভাবে এরা তাকিয়ে থাকে আমার দিকে। আমি নীরব হয়ে যায় বহুক্ষণ, সবকিছু নীরব হয়ে যায় বহুক্ষণ। আমি, দীঘি, ধুলো, পথ, ধান খেত, জোছনা, আকাশ, চাঁদ এক হয়ে গেছিলাম। ধ্যান ভাঙল হঠাৎ করে। মনটা খারাপ হয়ে গেল।
বেশিক্ষণ স্থিরতা স্বভাবে না থাকলে যা হয়। আমার মনটা আবার গল্প লেখার জন্য খা খা করে ওঠে। উঠে দাঁড়াই এবং সাইকেলটা আবার চালাতে থাকি ব্রিজের দিকেই। ব্রিজের কাছাকাছি পৌঁছার কিছু আগেই যেখানে আমি প্রথমে এসে দাঁড়িয়ে ছিলাম সেখানে তিনজন মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। তাদেরকে দেখতে পাবার পর তিন কি চার প্যাডেল দেবার সময় একটা লোকের কাকুতি শুনতে পায়—‘ভাই তোমাকে বাপ কহছি হামাকে ছাইড়্যা দ্যাও, ভাই হামার, বাপ হামার।’ যাকে বলা হচেছ সে তার কথার কোনো উত্তর দেয় না, এলোপাতাড়ি ছুরি মারতে থাকে, লোকটা পড়ে গেলে তারা ছুরি হাতে নিয়েই দৌড় দেয় যেদিকে আমি সাইকেল নিয়ে ভয়ে দাঁড়িয়ে গেছি সেদিকে। আমি আরো ভীত হয়ে পড়ি। তারা হয়তো আমাকেও খুন করে ফেলবে। তাদের খুন করা দেখে নিয়েছি। কিন্তু আমার পাশ দিয়েই তারা দৌড়ে চলে গেল, আমাকে খেয়ালই করল না। আমি বুকের পাঁজরগুলোর নড়াচড়া অনুভব করলাম। আমি হত্যা হওয়া লোকটার কাছে গেলাম। জোছনা, ব্রিজের আলো আর রাতের রঙের সাথে তার রক্ত মিশে যাচ্ছে। অন্য একটা সিরাপ তৈরি হচ্ছে। রাস্তার গড়নের দিকে কিছু রক্ত গড়ে যাচ্ছে। উজানের দিকে কিছু রক্ত প্রাণপণ শক্তি দিয়ে এঁকেবেঁকে উঠে যাচ্ছে। তার পাশে পড়ে রয়েছে একটা মোবাইল ফোন, সেটা বাজছে। লোকটার হাতের কাছেই মোবাইল, সে ধরছে না। যে তাকে ফোন করছে সে বুঝতে পারছে না, যাকে সে ফোন দিয়েছে সে কেন ফোন ধরছে না। ফোনটা বাজতেই আছে। কিছু রক্ত রাস্তার ভাটিতে গড়িয়ে যাচ্ছে, কিছু রক্ত রাস্তার উজানে উঠছে, কিছু রক্ত উর্ধ্বমুখি উঠে যাচ্ছে আর কিছু রক্ত আমার চোখের ভেতর ঢুকে যায়। ফোনটা বাজছেই। আমি ফোনটা ধরি—
: হ্যালো
: হ্যাঁ বাবা, তুমি ফোন ধরছ না কেন? রাত একটা পার হয়ে যাচ্ছে তুমি বাসায় আসছ না কেন?
: মা মণি, আমি তোমার বাবা নই।
: তবে কে আপনি, বাবার ফোন বাবা ধরছে না কেন?
: তার ফোন ধরার ক্ষমতা নেই, তার প্রাণ নেই। তাকে হত্যা করা হয়েছে।
মেয়েটা স্তব্ধ হয়ে গেছে। ফোনটা হাত বদল হলো সম্ভবত। হ্যাঁ, তাই হয়েছে। অন্য একজনের কণ্ঠ শোনা গেল—
: আহা, ছোট বাচ্চার সাথে ইয়ার্কি করছ কেন? এমনটা ঠিক নয়।
: হ্যাঁ, ইয়ার্কি হচ্ছে সমগ্র পৃথিবী জুড়েই। ইয়ার্কিই প্রধান এ পৃথিবীতে। অথবা ইয়ার্কি বলে কিছু নেই পৃথিবীতে, সবই সিরিয়াস।
এবার সে বুঝতে বুঝতে পেরেছে ফোনের মালিকের সাথে তার কথা হচ্ছে না। সে ভীত কণ্ঠে বলে উঠল—
: কে আপনি, কেন বাজে বকছেন! কে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে? আপনি নিশ্চয় মিথ্যে বলছেন। দয়া করে দিন না আমার আমার স্বামীকে।
স্ত্রীটি সম্ভবত মূর্ছা গেল। এবার মেয়েটি আবার ফোন ধরল, কান্নাকণ্ঠে—
: মিথ্যা আর বাজে কিছু বলবেন না। আমরা ভয় পাচ্ছি। দিন আমার বাবাকে দয়া করে। আমার মা অজ্ঞান হয়ে গেছে।
: না মামণি আমি মিথ্যে বলছি না। তোমার বাবাকে হত্যা করেছি আমি। না, তোমার বাবাকে একটা কুকুরে হত্যা করেছে। না, তোমার বাবাকে হত্যা করেছে একটা পাগল। না, তোমার বাবাকে হত্যা করেছে তোমার বাবাই। না, তোমার বাবাকে হত্যা করেছে সমগ্র দেশ। না, তোমার বাবাকে হত্যা করেছে দু’জন খুনি। না, না, আমিই তোমার বাবাকে হত্যা করেছি, হত্যা করেছে কুকুর, পাগল, তোমার বাবা নিজেই, সমগ্র দেশ, দুজন খুনি। ফোনটা কেটে যায়। হত্যা হওয়া লোকটার রক্তগুলো আমাকে তাড়া করতে শুরু করে। আমি বাসায় পালিয়ে আসি। বুকের ভেতর ধ্বক ধ্বক করতে থাকে বেশ কিছুক্ষণ। আমি একটা গল্প লিখতে চেয়েছিলাম আজ। ভেতরটা খা খা করছিল। আমি শান্ত হবার চেষ্টা করি এবং জোর করে লিখতে শুরু করলাম এতক্ষণ যা লিখলাম। আমি এতদূর লেখার পর বসে আছি আর ভাবছি পুলিশ যদি আমাকে…
[আমি পাশের বাড়ির লোক হিসেবে রাতেই জানতে পারি মোকাব্বের হোসানকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবার কথা। খবরটা শোনার পরপরই আমি তার বাড়ি যাই। তার পরিবারের সাথে কথা বলার ফাঁকে টেবিলের ওপর পড়ে থাকা খাতাটা দেখতে পাই। অসমাপ্ত গল্পটি তাদেরকে বলে নিয়ে আসি। একটা গল্প লেখার জন্য পাগল হয়ে গিয়ে নিজের জন্য কতই না বিপদ ডেকে আনল নিজের জন্য।
তারপর থেকে আমি তার সাথে দেখা করার জন্য কারাগারে বহুবার গেছি। তার বিচার দেখার জন্য আদালতে গেছি। জেরার সময় বারবার সে হত্যা হওয়া লোকটির মেয়েকে যে কথাগুলো বলেছিল সেগুলো বলতে থাকে। আদালত তাকেই দোষি সাব্যস্ত করেন। হত্যার দায় থেকে বেঁচে যায় দেশ, কুকুরটি, পাগল লোকটা, খুনি দুটা, খুন হওয়া লোকটা। তার ফাঁসির ক’দিন আগে তার সাথে দেখা করতে গেলে সে আমাকে বলে—‘ভাই আপনি আমাকে নিয়ে একটা গল্প লেখবেন।’ আমি তাকে শুধু বলেছিলাম—‘তোমাকে নিয়ে গল্প লেখার ক্ষমতা আমার নেই।’ তখন সে আবার আমাকে তার লেখা গল্পটি অন্তত শেষ করে প্রকাশ করতে বলে। আমি তাকে আশস্ত করি যে—‘গল্পটি আমি শেষ করতে পারব কিনা জানি না কিন্তু অসমাপ্ত গল্পটিই প্রকাশ করার ব্যবস্থা করব।’
পরে একদিন একপত্রিকা অফিসে যাই এবং গল্পটি সম্পর্কে সম্পাদককে বলি। সম্পাদক গল্পটির গল্প আমার কাছে শুনে অবাক হয়ে তখনই গল্পটি পড়তে শুরু করেন। সম্পাদক বলেন—‘হতে পারে এ গল্পটি আদালতে দাখিল করলে সে বেঁচে যেতে পারত। কারণ আমার মনে হচ্ছে যখন বাইরে গল্পটি ঘটছিল ঠিক তখন গল্পটি গল্পকারের কলম দিয়ে বের হচ্ছিল অথবা লেখকের কলম দিয়ে যখন যা বের হচ্ছিল তখন তা পরে পরেই ঘটে যাচ্ছিল। কোনো খুন হওয়া সে সহ্য করতে পারেনি। সে নিজেকেও অপরাধী ভাবতে শুরু করে বলে এমন হয়েছে মনে হয়।’]

Powered by Live Score & Live Score App