• ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
  • ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪
  • ৮ই জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯

২৫ মার্চ : তিন তরুণের কবিতা

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো নিরস্ত্র বাঙালির ওপর। চালিয়েছিলো গণহত্যা। সেই রাতে অকাতরে জীবন দিয়েছে বাংলার অগণিত বাবা-মা-ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন। সেই হত্যাযজ্ঞের শহীদদের স্মরণে সময় নিউজের বিশেষ আয়োজন। শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে সমকালীন তিন তরুণের কবিতা নিবেদন করা হলো-

পতাকা
আহমেদ শিপলু

পতাকা হাতে দৌড়চ্ছ তুমি
উল্লাস করছো তুমি
হে তরুণ!
টিশার্টের বুকে লাল সবুজ এঁকে
মিছিলে হেঁটে যাওয়া যুবক
সবুজজমিনে লালপেড়ে শাড়ি পরিহিতা চঞ্চল যুবতি
তুমি কি দেখো ওই সবুজে
ওই লাল বৃত্তের ভেতর
হাজার বছর সংগ্রামের ইতিহাস!
রক্তাক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ।
দেখতে কি পাও?

গাঢ় সবুজের মাঝে রক্তিম বৃত্ত
কখনো টগবগে লাল সূর্য
কখনো তাজা তরুণের রক্তের ছোপ!
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার!
এখানেই রয়েছে বায়ান্নো
একাত্তর
মার্চ এর কালরাত!
বিজয়ের ডিসেম্বর!
রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি!
তাকালেই দেখা যায় বিশাল গণমিছিলের ঢেউ
কারফিউ ভেদ করে আছড়ে পড়েছে রাজপথে।

ওই লাল বৃত্তের দিকে তাকালেই দেখা যায়–
উত্তাল উনসত্তর!
আগরতলা ষড়যন্ত্র!
মাওলানা ভাসানি,
বঙ্গবন্ধু!
তর্জনী উঁচানো সাত-ই মার্চ!
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম!
এবারের সংগ্রাম আমদের স্বাধীনতার সংগ্রাম!
ওই সবুজের মাঝেই রয়েছে মুজিব নগর
তাজউদ্দীন
আর ত্রিশ লাখ শহিদের বুকে গজিয়ে ওঠা
ঘাসের ঠিকানা।

বাঙালির মুক্তি আর মুক্তচিন্তার ঠিকানা ছিলো
যেই লালসবুজের খামে!
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিজয়ের সনদ ছিলো
যেই রক্তাক্ত চিঠিতে।
অশুভ পঁচাত্তর!
পঙ্কিল আগস্ট!
কেড়ে নিয়েছিলো সেই খাম!
ছিড়ে ফেলেছিলো সেই চিঠি!
প্রতারক বুলেটে ঝাঁঝরা হয়েছিলো
শান্তির ডাকপিয়ন!

পতাকা হাতে দৌড়চ্ছ তুমি
উল্লাস করছো তুমি, হে তরুণ!
টিশার্টের বুকে লাল সবুজ এঁকে
মিছিলে হেঁটে যাওয়া যুবক
সবুজ শাড়িতে লাল পাড় পরিহিতা চঞ্চল যুবতি
তুমি কি দেখো ওই সবুজে
ওই লাল বৃত্তের ভেতর
হাজার বছর সংগ্রামের ইতিহাস!
রক্তাক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ।
দেখতে কি পাও?

****

তীর্থ
সানাউল্লাহ সাগর

মা ডাকছেন। বেলা কি হয়ে গেলো শেষে! পুঁইয়ের নাক থেকে রোদ হাসে, তখনো লতায় আমার ঘুম।

মা আসেন। জলের রোগ রেখে বলে চলেন, ব্যয়ের খাতায় উঠেছে যেসব দিন। দোয়েলের ঠোঁটে কলুই আসে, আমার মগজে বিরবির করে ভূতের সোড়গোল।

মা, মা হাসেন। লেবুর ঘামে দুনিয়া বুঁদ, শর্তের ডালে ডালে শোধবার ডাকে। মুখ নাই আর, আমিও নাই ছুটিবারের ভোটে।

কোথায় শবজোট, কোন কাঁধে সহ্যের কফিন। কোনো ন্যাপকিনে আমি নেই। মাও নেই কোনো ফুলভ্রমে!

****

বিজয়ী সূর্য
মিজানুর রহমান মিথুন

পলাশীর প্রান্তরে ডোবা সূর্য-
অবশেষে শৃঙ্খলবন্দি হয় আবার।

কাঁদে বাংলা সিরাজের শোকে
তিমিরে কাটে বহুকাল-
কখনো দস্যু, কখনো হায়েনা,
দালাল- বেনিয়া আরো কত রূপ।

যে যার মতো স্বার্থের বিষাক্ত
নখরাঘাতে বিদীর্ণ করেছে বাংলা।
আগুনে জ্বালিয়ে করেছে ছারখার,
তারপর এলো মর্টার, এলো গ্রেনেড,
সাঁজোয়া যান আরো কত কী!

চেয়েছিলো ছো মেরে নিয়ে যেতে
অবশেষে পারেনি, উঠলো সূর্য-
২৬ মার্চ মুক্তি পেলো বন্দিসূর্য,
বিজয়ী সূর্য উঠলো ডিসেম্বরে।

Powered by Live Score & Live Score App