
মালদ্বীপ থেকে দেশে ফিরছে সজীব ও ধনু মিয়ার মরদেহ
মোহাম্মদ আবদুল কাদের
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৮

মালয়েশিয়ায় একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৪৯২ জন অবৈধ বিদেশি শ্রমিককে আটক করেছে স্থানীয় অভিবাসন বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের তেব্রাউ এলাকার একটি অটোমোটিভ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৪৯২ জন অবৈধ বিদেশি শ্রমিককে আটক করেছে স্থানীয় অভিবাসন বিভাগ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ‘মালয়েশিয়া বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সি’ (একেপিএস)-এর সহযোগিতায় এ যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক।
জোহর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক মোহামাদ রুসদি মোহামাদ দারুস মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, অতিরিক্ত খরচ বাঁচাতেই নিয়োগকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ করে আসছিলেন। কয়েক সপ্তাহের টানা গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের গোপন অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় কারখানার কিছু শ্রমিক স্থান ত্যাগ করে লুকিয়ে পড়ার চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তারা ধরা পড়েন। একই সাথে কারখানার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একজন মালয়েশীয়কেও আটক করা হয়েছে।
আটকদের বয়স ১৯ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে, যার মধ্যে ২৪৭ জন পুরুষ এবং ২৪৫ জন নারী রয়েছেন। আটক পুরুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭০ জন বাংলাদেশি, ৭৭ জন মিয়ানমার, ৪৮ জন নেপাল, ৩৮ জন ইন্দোনেশিয়া, ২৮ জন ভারত এবং ৩ জন পাকিস্তানের নাগরিক। অন্যদিকে, আটক নারীদের মধ্যে মিয়ানমারের ৬৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪৯ জন, নেপালের ৭ জন, ভারতের ৩ জন, বাংলাদেশের ২ জন এবং কম্বোডিয়ার ১ জন নাগরিক রয়েছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বৈধ কাগজপত্র এবং কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) না থাকা সত্ত্বেও তারা কাজ করে আসছিলেন।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইন ও ১৯৬৩ সালের অভিবাসন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো বৈধ নথি ও পারমিট ছাড়া অবৈধ শ্রমিক নিয়োগকারী মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।