
মালয়েশিয়া থেকে নয় মাসে ৪৫ হাজারের বেশি অভিবাসী ফেরত, শীর্ষে বাংলাদেশিরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১০

রাজধানী মানামার কাছাকাছি আল নাখলা সুইমিংপুলের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বাহরাইনে বসবাসরত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন। ছবি: সংগৃহীত
বাহরাইনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, পূজা-অর্চনা ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের বাহরাইন বৈদেশিক শাখার উদ্যোগে নবমবারের মতো এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলা ও শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উৎসবে যোগ করে বাড়তি আনন্দ।
রাজধানী মানামার কাছাকাছি আল নাখলা সুইমিংপুলের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বাহরাইনে বসবাসরত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন। পূজা-অর্চনা, প্রার্থনা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে নিজস্ব ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ তৈরি হওয়ায় উৎসবটি অংশগ্রহণকারীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
ধর্মীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রথায় দেবীর আগমন ও গমনের বাহনকে ঘিরে বিভিন্ন ব্যাখ্যা প্রচলিত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর মাহফুজুর রহমান। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুজিত সূত্রধরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিষ্ণুপদ দেব।
রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার দুর্গোৎসবের সুন্দর আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের বাহরাইন শাখাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজনে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করবে। সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে রাষ্ট্রদূত বাহরাইনের আইনশৃঙ্খলা ও প্রচলিত নিয়মকানুন মেনে চলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রবাসে দেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের বাহরাইন বৈদেশিক শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুকুমার যীশু। তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘু হয়ে আমরা বাঁচতে চাই না। নিজ দেশে নিজেদের অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই। বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি, আমরা বাংলার ভূমিপুত্র।’
দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার তিন দিনের ছুটির ব্যবস্থা করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এ উদ্যোগকে মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে পূজাকে কেন্দ্র করে সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি উৎসবে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বাংলাদেশি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা নৃত্য, গান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয়। তাদের পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেয়। সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক বিধান মজুমদারের ব্যবস্থাপনায় এবং বাংলাদেশ স্কুলের শিক্ষিকা মন্দাকিনীর উপস্থাপনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নেতা রুপম পালসহ অন্যান্য নেতাকর্মী ও সদস্যরা। আয়োজকদের মতে, প্রবাসে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রজন্মের কাছে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা এবং প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদার করা।
ধর্মীয় উৎসবের মধ্য দিয়ে শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা আরও বিস্তৃত হোক এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা। তাদের আশা, বাহরাইনের বহুজাতিক সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।