
মালয়েশিয়ায় শ্রমিক কোটা জালিয়াতি চক্রের সন্ধান: বহু গ্রেফতার, ৩৪১টি পাসপোর্ট উদ্ধার
ওমর ফারুক খোন্দকার
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪

মালদ্বীপে যাওয়ার পর মৃত্যুবরণ করা আব্দুল গাফফার। ছবি: সংগৃহীত
মাত্র দুই দিন আগেই সুস্থ-সবল অবস্থায় মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন ৪২ বছর বয়সি প্রবাসী বাংলাদেশি আব্দুল গাফফার। ভাগ্য বদলের আশায় বিদেশে যাত্রা করলেও, মালদ্বীপে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পর ঘুমের মধ্যেই স্ট্রোকে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন আব্দুল গাফফারের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে। তার দেশের বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কেত্রাহাট এলাকায়। পিতার নাম মো. আবু বক্কর মন্ডল।
আব্দুল গাফফারের নিকট আত্মীয় মো. আল আমিন মুঠোফোনে সময় সংবাদকে জানান, গত ৬ অক্টোবর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সুস্থ অবস্থায় আব্দুল গাফফারকে মালদ্বীপে পাঠানো হয়। মালদ্বীপে পৌঁছে রাতে স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। আনুমানিক রাত ৩টার দিকে ঘুম থেকে উঠে বুকে ব্যথা অনুভব করেন। এ সময় কক্ষে থাকা অন্যরা জানতে চাইলে তিনি ঠিক আছেন বলে জানান এবং আবারও ঘুমিয়ে পড়েন।
মো. আল আমিন জানান, পরের দিন (৭ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে তাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি মালিককে জানানো হয়। পরে মালিক পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে আব্দুল গাফফারকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ট্রোকেই তার মৃত্যু হয়েছে।
আল-আমিন আরও জানান, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিলেন না আব্দুল গাফফার। পরিবারের ভাগ্য বদলের আশায় ধার-দেনা করে তিনি মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তবে মালদ্বীপের মাটিতে পা রাখার পরপরই তার সেই স্বপ্ন থেমে গেল।
আব্দুল গাফফারের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিতে মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছে তার পরিবার।
বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, আব্দুল গাফফার মাত্রই মালদ্বীপে এসেছিলেন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে হাইকমিশন।
হাইকমিশন আরও জানায়, আব্দুল গাফফারের মরদেহ দেশে পাঠানোর লক্ষ্যে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।