
আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা করলে জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৪৩

যোগাযোগের অনুন্নত ব্যবস্থা দায়ি করছেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা। ছবি: সময় সংবাদ
একটি মাদ্রাসায় শিক্ষক কর্মচারীর সংখ্যা ১৫ জন, অথচ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল মাত্র ১২ জন। অবিশ্বাস্য হলেও এমন চিত্র পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পূর্ব ইন্দ্রকুল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায়। শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক বেশি। অবকাঠামো সংকট ও অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থী উপস্থিতির সংখ্যা বাড়ানে যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার সুপার ও প্রতিষ্ঠাতা। তবে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পূর্ব ইন্দ্রকুল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ক্লাসরুম রয়েছে ৯ টি। এরমধ্যে তিনটিতে ১ জন থেকে ৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান চলছে, বাকিগুলো শিক্ষার্থীদের অভাবে খালি পড়ে আছে। শিক্ষার্থী না থাকায় মাদ্রাসায় অলস সময় পার করছেন শিক্ষকরা।
১৯৯৪ সালে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নে পূর্ব ইন্দ্রকুল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসা নামের এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০০৪ সালে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ছোট দুটি জরাজীর্ন টিনসেট ঘরের এ মাদ্রাসাটিতে মাত্র ১২ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাতে দেখা গেছে। তবে মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার্থী ও কর্মচারী সংখ্যা রয়েছে ১৫ জন। শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম হলেও বছরের পর বছর অন্য বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠনটি টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।
মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, যোগাযোগের অনুন্নত ব্যবস্থা কাঁচা সড়ক পাশাপাশি মাদ্রাসা চারপাশে রয়েছে অসংখ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যার কারণে দিন দিন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে।
মাদ্রাসাটির সুপার মাফুজা বেগম জানান, অবকাঠামো সংকট ও অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থী উপস্থিতির সংখ্যা বাড়ানে যাচ্ছে না। তবে আমাদের ১ শতর বেশি শিক্ষার্থী আছে অনেকে অসুস্থ থাকায় আসতে পারে নাই।
জেলা শিক্ষা অফিসার মুহাঃ মজিবুর রহমান বলেন, আমি শিক্ষার্থীর বিষয়টি খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। শিক্ষার্থী থাকবে না আর শিক্ষকরা বসে বসে বেতন নেবে সেটা হতে পারে না।
উল্লেখ্য, পূর্ব ইন্দ্রকুল গ্রামের ১ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে আরও ৩ টি মাদ্রাসা ও ২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। জেলায় মোট মাদ্রাসা রয়েছে ২৪৬ টি।