
স্থানীয় নির্বাচনে সরকার ও প্রশাসন বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না: শাহে আলম
প্রতিবেদক, মোংলা
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৩৩

‘এক বেলার মেহমান খানা’য় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে মাটিতে বসে দুপুরের খাবার খেয়েছেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। ছবি: সময় সংবাদ
কোনো প্রকার প্রটোকল বা রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়। মোংলায় একদম সাধারণ ও ছিন্নমূল মানুষের কাতারে সামিল হলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে জুমার নামাজ শেষে স্থানীয় যুব সমাজের ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘এক বেলার মেহমান খানা’য় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে তিনি মাটিতে বসে দুপুরের খাবার খেয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোংলা পোর্ট পৌরসভা ও আশপাশের গ্রাম এলাকার অসহায়, দুস্থ, ভিক্ষুক ও ছিন্নমূল মানুষের মুখে সপ্তাহে অন্তত একবেলা পুষ্টিকর ও ভালো মানের খাবার তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে স্থানীয় যুব সমাজ। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়ন, ব্যবসায়ী ও বন্ধু বান্ধবের সহযোগিতায় এবং স্বেচ্ছাশ্রমে গত এক বছর ধরে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর এই ‘এক বেলার মেহমান খানা’র আয়োজন করে আসছিল।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মোংলায় সরকারের পূর্বনির্ধারিত কিছু প্রশাসনিক কর্মসূচি পালন শেষে প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম যুবকদের এই মানবিক উদ্যোগের কথা শুনতে পান। খবর পেয়েই তিনি কোনো প্রকার দ্বিধাবোধ না করে সরাসরি মেহমান খানার অনুষ্ঠানস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে রাজকীয় চেয়ার-টেবিল ছেড়ে মাটিতে চট বিছিয়ে বসে থাকা ক্ষধার্ত ছিন্নমূল মানুষদের পাশে গিয়ে তাদের খোঁজ খবর নেন এবং সাধারণের মতোই তাদের পাশে বসে পড়েন।
প্রতিমন্ত্রীকে একজন সাধারণ মানুষের মতো মাটিতে বসে পড়তে দেখে ক্ষণিকের জন্য উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে তার প্রটোকলে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমী, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মোংলা থানার পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাথে থাকা উপজেরা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ রাজনৈতিক নেতারাও মাটিতে বসে দুপুরের খাবার খেতে শুরু করেন।
খাবার গ্রহণ শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের এই জাঁকজমকপূর্ণ সমাজের অন্তরালে এখনও বহু অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষ রয়েছে, যারা দুমুঠো অন্ন জোগাতে হিমশিম খায়, একবেলা ভালোভাবে খেতেও পারে না। এই অবহেলিত মানুষগুলোকে সপ্তাহে অন্তত এক দিন এক বেলা ভালো খাবার খাওয়ানোর যে উদ্যোগ স্থানীয় যুব সমাজ নিয়েছে, তা অত্যন্ত মহতী ও প্রশংসনীয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এই অসাধারণ উদ্যোগের কথা শুনেই লোভ সামলাতে না পেরে এখানে দেখতে চলে আসলাম এবং তাদের আনন্দের অংশীদার হলাম। সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে এই ধরনের মানবিক কাজে বিত্তবানসহ সমাজের সবার এগিয়ে আসা উচিত। এর মধ্য দিয়ে সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় ও অটুট থাকে এবং আমরা সবাই একে অপরের সুখ-দুঃখের প্রকৃত সাথী হতে পারি।’
এলাকার অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর এমন নিরহংকার, আন্তরিক ও মানবিক আচরণ দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও সুধী সমাজ তার ভূয়সী প্রশংসা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একজন মন্ত্রী হয়েও সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট অনুভব করে তাদের সঙ্গে মাটিতে বসে খাবার খাওয়ার এই চমৎকার দৃশ্য মোংলার সামাজিক সম্প্রতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।