
আগাম প্রস্তুতির কারণে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার ৪০ শতাংশ কমেছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
প্রতিবেদক, নীলফামারী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৫৯

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন করেন রেলপথ মন্ত্রণালয় বিষয়ক মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত
নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কোচ তৈরির কাজের মানে অসঙ্গতি দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় বিষয়ক মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মানহীন কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, দক্ষ জনবল দিয়ে কাজের মান নিশ্চিত করতে না পারলে কাজ বন্ধ রাখতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে কারখানার ক্যারেজ শপে কোচ তৈরির কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। পরে বেলা ২টার দিকে বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়কের (ডিএস) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে কোচ তৈরির ক্ষেত্রে জানালার ফিনিশিং ও ব্যবহৃত উপকরণের মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী কর্মকর্তাদের বলেন, ‘আপনারা কাজের তদারকি করেন না, কাজ বুঝেও নেন না। নিজেরাও বোঝেন না বলেই এমন অবহেলা। এগুলোর চেয়ে বাসাবাড়ির কাজও অনেক ভালো হয়। আপনাদের তদারকির চরম অভাব রয়েছে। এভাবে আর চলতে দেয়া হবে না। দক্ষ জনশক্তি দিয়ে মান নিশ্চিত করতে পারলে কাজ করেন, নয়তো সব বন্ধ রাখেন।’
এর আগে সকালে ঢাকা থেকে আকাশপথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তার সঙ্গে ছিলেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম, রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মহিউদ্দিন ও মহাব্যবস্থাপক আহমেদ মাসুম। কারখানায় পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ ও কর্ম ব্যবস্থাপক মমতাজুল ইসলাম। এ সময় সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকতার শাহীনসহ রেলওয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে রেলপথমন্ত্রী বলেন, ‘এই কারখানা অত্যন্ত প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ। নানা কারণে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। আমাদের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সদিচ্ছা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাব ছিল। এসব দুর্বলতা দূর করে কারখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে চায় সরকার। সেই সম্ভাব্যতা যাচাই করতেই এই সফর।’
জনবল ও অবকাঠামো প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও জানান, সৈয়দপুরে রেলওয়ের জনবল সংকট দ্রুত দূর করা হবে। এছাড়া পুরনো বাংলো ও কোয়ার্টারগুলো সংস্কার এবং রেলওয়ের ৯টি হাসপাতালের মানোন্নয়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সৈয়দপুর কারখানা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা পরিদর্শনে যান।