
ফৌজদারি অপরাধ হলে পদত্যাগ যথেষ্ট নয়: আসিফ
সুফিয়ান আল হাসান, লালমনিরহাট
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৬

লালমনিরহাটে একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দির। ছবি: সময় সংবাদ
‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান। মুসলিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ।’ কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই গানের কথার অনন্য দৃষ্টান্ত মিলল লালমনিরহাটে। জেলার পৌর শহরের কালীবাড়ি এলাকায় একই জমির আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মসজিদ ও মন্দির। একপাশে যখন ধূপকাঠি ও উলুধ্বনি, অন্যপাশে তখন আতরের সুঘ্রাণ ও নামাজ। কোনো প্রকার রেষারেষি বা বিভেদ ছাড়াই যুগের পর যুগ ধরে পাশাপাশি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা পুরান বাজার জামে মসজিদ এবং কালীবাড়ি সর্বজনীন মন্দির দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
পৃথিবীজুড়ে চলমান সাম্প্রদায়িক নানা সংঘাতের খবরের মাঝে, কোনো প্রকার বাগ্বিতণ্ডা বা অভিযোগ ছাড়াই একই খতিয়ানভুক্ত জমিতে দুই ধর্মের মানুষের এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নজর কেড়েছে।
কালীবাড়ি মন্দিরটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো। তৎকালীন মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীরা এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পূজার্চনা করতেন। পরবর্তীতে তারা দেশ ছেড়ে চলে গেলেও মন্দিরটি অক্ষত থেকে যায়। এরপর ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর একই আঙিনায় গড়ে ওঠে পুরান বাজার জামে মসজিদ। সেই থেকে একই উঠানে দুই ধর্মের উপাসনালয় মিলেমিশে সহাবস্থান করছে।
বর্তমানে মন্দিরটিতে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় স্বাভাবিক নিয়মে পূজার্চনা চলে। সেখানে শ্রীশ্রী কালীমূর্তি, দেবাদিদেব মহাদেব ও শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথের পাশাপাশি রয়েছে শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির, যেখানে প্রতিবছর জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। ঠিক একই উঠানের ঐতিহ্যবাহী পুরান বাজার জামে মসজিদে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
যুগের পর যুগ একই সঙ্গে হিন্দু ও মুসলিমরা নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করে এলেও কোনো দিনই তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ দেখা দেয়নি। এ বিষয়ে মসজিদের ইমাম মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা উভয় ধর্মের মানুষ এখানে হাসিমুখে থাকি, ধর্ম পালন করি।’
অন্যদিকে, মন্দিরের পুরোহিত সুমন কুমার চক্রবর্তী জানান, আমাদের এত দিনের সম্পর্কে কখনো কোনো বিরোধ আসেনি। আগামীতেও আসবে না।