
দুর্নীতি করে শিক্ষক ভাতা বন্ধ করেছিল ফ্যাসিবাদি সরকার: মাহদী আমিন
মাছুদুর রহমান
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২৬

২০২৫ সালের ১৮ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামীর মোজাফফর নগরে রিংভো অ্যাপারেলস নামের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ও গোডাউনে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ২০ হাজার ৩০০টি ইউনিফর্ম। সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, এসব ইউনিফর্ম নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট-কেএনএফের।
এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। কুকি-চিনের একজন প্রতিনিধি বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব ইউনিফর্ম তৈরির অর্ডার দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় চারজনের নামে মামলা হয়। এরপর ঢাকায় সিআইডি সদর দফতর থেকে অনুসন্ধান শুরু হয়; একটি সন্ত্রাসী সংগঠন কীভাবে বিভিন্ন গার্মেন্টসে এতগুলো ইউনিফর্ম তৈরি করছিল। সম্প্রতি সেই অনুসন্ধান শেষ করেছে সংস্থাটি। সময় সংবাদের হাতে এসেছে অনুসন্ধানের তথ্য।
সিআইডি ২০২৫ সালের ৪ জুন থেকে শুরু করে ৭ অক্টোবর অনুসন্ধান শেষ করে। এতে সংস্থাটি জানতে পারে, কুকি-চিনের প্রতিষ্ঠাতা নাথান বম ২০২৪ সালের নভেম্বরে সংগঠনের সদস্য মংহলাসিন মারমাকে পোশাকগুলো তৈরির নির্দেশ দেন। এরপর মংহলাসিন চট্টগ্রামের স্থানীয় দালাল নিয়াজ হায়দার ও গোলাম আজমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরে এই দুজন ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেড গার্মেন্টসের দুই কর্মকর্তা জামালুল ও তৌহিদীদুলের সঙ্গে ৪০ হাজার ইউনিফর্মের প্রিন্ট করা কাপড় কেনেন। সেই কাপড় সেলাই করতে দেয়া হয় রিংভো অ্যাপারেলসের মালিক সাহেদুর ও কামরুজ্জামানকে।
সিআইডি বলছে, গার্মেন্টসের মালিকরা প্রতিষ্ঠানটি নিষিদ্ধ সংগঠনের জন্য কাজ করছে জেনেও বিপুল অর্থের লোভে পোশাক তৈরি করেছেন। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, ‘মানি লন্ডারিং হয়েছে কি না কিংবা এর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা নিয়ে সিআইডি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে। তদন্তে মানি লন্ডারিং ও অর্থের প্রবাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। এই অবৈধ অর্থের সঙ্গে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে প্রধান ব্যক্তি নাথান বম। তাকে প্রধান আসামি করে আরও ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করা হয়েছে।’
অনুসন্ধানে আর্থিক লেনদেনের চিত্রও উঠে এসেছে। সিআইডির তথ্য বলছে, নাথান বম মংহলাসিনকে প্রথমে ৯০ লাখ ৫৯ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় আরও ৭২ লাখ টাকা দেন। এর মধ্যে মংহলাসিন ৯০ লাখ ৫৯ হাজার টাকা নিয়াজ ও আজমের মাধ্যমে ওয়েল কম্পোজিট গার্মেন্টসে দেন। বাকি ৭২ লাখ টাকা দেয়া হয় রিংভো অ্যাপারেলসকে। রিংভো নিজেদের জন্য ৫০ লাখ টাকা রেখে এন এন ফ্যাশন ও নূর ফ্যাশনকে দেয় ২২ লাখ টাকা। ৪০ হাজার পিস ইউনিফর্ম তৈরির চুক্তি হলেও ২০ হাজার ইউনিফর্ম প্রস্তুত করা হয়েছিল।
মো. ছুফি উল্লাহ আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও কোনো তথ্য পাওয়া গেলে কিংবা কোনো ব্যক্তি বা কারখানার মালিকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে, যারই সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলবে, তাকে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনা হবে।’
১ কোটি ৬২ লাখ টাকার বাইরেও আরও কোনো লেনদেন আছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখছে সিআইডি।