
নভেম্বরেও কমবে না ডেঙ্গুর প্রকোপ, ভয়াবহ ঝুঁকিতে ঢাকার বাইরের জেলাগুলো
কমল দে
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৮

চট্টগ্রাম বন্দরে ঝুঁকিপূর্ণ কনটেইনার। ছবি: সময় সংবাদ
চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা এসিড, থিনারসহ বিভিন্ন বিপজ্জনক কেমিক্যাল বোঝাই ৯টি কনটেইনার লরি ও কাভার্ড ভ্যানে করে নারায়ণগঞ্জের ওয়াটা কেমিক্যাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানে নেয়ার কথা ছিল। তবে পথেই আগুনে পুড়ে যায় এসব বিপজ্জনক পণ্যবাহী একটি কাভার্ড ভ্যান।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ বলেন, ‘এগুলো আগুনের উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন কেমিক্যাল। স্বাভাবিকভাবেই এসব পণ্য দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছিল।’
এ ধরনের ক্ষতিকর পণ্য বোঝাই ৩২৩ টিইইউ কনটেইনার এখনো বন্দরের বিভিন্ন জেটি ও ইয়ার্ডে পড়ে আছে। এর মধ্যে ৪৪টি কনটেইনার এতটাই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে যে, সেগুলো থেকে কেমিক্যাল বেরিয়ে আসছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম রনি বলেন, ‘যেকোনো মুহূর্তে এগুলো বিস্ফোরিত হতে পারে, আগুনও ধরতে পারে। আগুন লাগলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে। কারণ, এটি একটি বন্ডেড এলাকা। এখানে শুধু এসব পণ্যই নয়, আরও বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে।’
জরাজীর্ণ কনটেইনারে থাকা বিপজ্জনক কেমিক্যাল নিলামে বিক্রি না করে বন্দরে ফেলে রাখায় অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কাস্টম কমিশনারকে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘বন্দরে ৩০০ টিইইউর বেশি বিপজ্জনক পণ্য রয়েছে। এসব পণ্য বন্দরের ভেতর থেকে সরিয়ে নিতে নিয়মিত কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছি এবং তাদের তথ্য দিচ্ছি।’
পরীক্ষামূলকভাবে নারায়ণগঞ্জের ওয়াটা কেমিক্যালের কারখানায় আটটি কনটেইনারের কেমিক্যাল ধ্বংসের প্রক্রিয়া সফল হয়েছে। তবে বন্দরে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল ধ্বংস করতে প্রয়োজন বড় পরিসরের কারখানা।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, ‘কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এসব পণ্য নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা অনুযায়ী পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) অনুসরণ করে নিলাম প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।’
আমদানির ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এসব কেমিক্যাল ছাড় না করায় নিলামে বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।