
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৬

শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা নিচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।
বরিশাল বিভাগে প্রতিবছর চোখে ছানি পড়ছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের। অথচ শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া আর কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে নেই চক্ষু বিশেষজ্ঞ। ফলে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসাসেবার জন্য দ্বারস্থ হতে হয় সেখানেই। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য মতে, বিভাগের এক কোটি মানুষের চোখের চিকিৎসায় সরকারি পর্যায়ে ভরসা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এদিকে এ অবস্থা থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বরিশাল বিভাগকে ছানিমুক্ত করতে কাজ করছে একটি বেসরকারি সংস্থা।
শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গিয়ে সময় সংবাদের সাথে কথা হয় ৭০ বছরের দিদার চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির সাথে। তিনি জানান, কিছুদিন ধরে ঝাপসা দেখছিলাম। ভেবেছিলাম বয়সজনিত সমস্যা। কিন্তু এখন দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে আসায় ছুটে এসেছি শের-ই-বাংলা মেডিকেলে। জানতে পারি চোখে ছানি পড়েছে।
হাসপাতালটির সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এরকম অসংখ্য রোগী। তারা দূরদূরান্ত থেকে এসেছেন চিকিৎসাসেবা নিতে।
এক রোগীর স্বজন বলেন, শের-ই-বাংলা মেডিকেল ছাড়া চক্ষু বিশেষজ্ঞ নেই। যে কারণে লম্বা লাইন ধরে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। আরেকজন জানান, অনেক দূর থেকে আসতে হয়েছে এতে অনেক টাকাও খরচ হচ্ছে আমাদের। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে যদি ভালো ডাক্তার থাকতো তাহলে আমাদের এতো দূর আসতে হতো না। কম টাকায় চিকিৎসা নিতে পারতাম।
এক যুবক জানান, পটুয়াখালীতে হাসপাতালে যদি চক্ষু বিশেষজ্ঞ থাকতেন, তাহলে তো আমাদের এখানে আসতে হতো না।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, বরিশাল বিভাগে বছরে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন ছানি রোগে। অথচ শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল ছাড়া বিভাগের কোনো সরকারি হাসপাতালে নেই চক্ষু বিশেষজ্ঞ। তাই চোখের সমস্যা নিয়ে ভোগান্তিতে রোগীরা।
চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. ডিবি পাল বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক স্বল্পতার কারণেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে রোগীরা ধাবিত হচ্ছে। দ্রুত এর সমাধান করা দরকার।
বেসরকারি হাসপাতালে চোখের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হিমশিম অবস্থা নিম্নআয়ের মানুষের।
বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া রোগীরা জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক কম থাকায় এখানে আসতে হয়েছে, দ্রুত চিকিৎসার জন্য। বেসরকারিভাবে খরচও বেশি। সরকারিভাবে করলে তো খরচটা অনেক বেচে যেত। গরীব রোগীদের জন্য সেটা ভালো হতো, উপায় না পেয়ে এখানে আসা।
বরিশাল বিভাগকে ২০৩০ সালের মধ্যে ছানি মুক্ত করতে প্রান্তিকপর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার এ কে এম বদরুল হক।
আর সরকারি পর্যায়ে দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগের আশ্বাস স্বাস্থ্য অধিদফতরের।
বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (বরিশাল) ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার বলেন, যে সংকটগুলো রয়েছে মানে জেলা শহরের হাসপাতালে একাধিক চক্ষু বিশেষজ্ঞদের পদায়ন করা, তাহলে জেলাগুলোর মানুষ সুচিকিৎসা পাবে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য বলছে, বিভাগের এক কোটি মানুষের চোখের চিকিৎসায় সরকারি পর্যায়ে ভরসা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।