
রিয়াদে হুতিদের হামলার নিন্দা বাংলাদেশের, নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা
স্বপন আহমেদ
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৫৯

ব্যস্ত সড়কে বেপোরোয়াভাবে চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। ছবি: সময় সংবাদ
রাজধানীর প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার প্রবেশ ঠেকাতে তৎপর ট্রাফিক পুলিশ। তবে পুলিশের বাধা এড়িয়ে কাছাকাছি অন্য পয়েন্ট দিয়ে ঠিকই প্রধান সড়কে ঢুকে পড়ছে একের পর এক অটোরিকশা। ফলে পুলিশের চেষ্টা সত্ত্বেও সড়কগুলোকে এসব যানবাহনের দৌরাত্ম্যমুক্ত রাখা যাচ্ছে না।
ব্যস্ত সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল অনেক সময় অন্য যানবাহনের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলার সময় সুযোগ পেলেই লেন পরিবর্তন করছে এসব যান। প্রধান সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোও চলছে। প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স ছাড়াই অনেক চালক যান চালানোয় তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। এতে অন্য যানবাহনের গতি কমার পাশাপাশি কোথাও কোথাও ঘটছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে যানজট।
এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের সিদ্ধান্ত, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রধান সড়কে চলতে পারবে না। এসব যান চলবে অভ্যন্তরীণ সড়ক ও গলিতে। তবে চালকদের যুক্তি, এসব সড়কে যাত্রী কম থাকায় আয়ও কম হয়। তাই বেশি আয়ের আশায় যাত্রীর চাহিদা অনুযায়ী তারা প্রধান সড়কে ওঠেন।
এক অটোরিকশাচালক বলেন, ‘প্রধান সড়কে না উঠলে কোনো ট্রিপের ভাড়াও পাওয়া যায় না। কিছু কিছু জায়গায় না উঠলেও চলে না। যেমন রাস্তা পার হতে হয়।’
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবে সুযোগ পেলেই এসব যান উঠে পড়ছে মূল সড়কে। তাই প্রশ্ন উঠছে, চালকেরা কেন বারবার প্রধান সড়কে উঠছেন, শুধু সেটিই নয়; যে ব্যবস্থা দিয়ে তাদের চলাচল ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তা কেন স্থায়ীভাবে কার্যকর হচ্ছে না?
অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিক নেতারা বলছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে সিদ্ধান্ত কার্যকর করলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘মূলত আমরা বড় সড়কে উঠতে চাই না। সিটি করপোরেশন যদি আটটি ভাগে ভাগ করে দেয়, তাহলে এক রাস্তা পার হয়ে অন্য রিকশায় উঠতে হবে। মানুষের সঙ্গে ব্যাগ-বস্তা থাকতে পারে, বাজারের ব্যাগ থাকতে পারে। এক রিকশা থেকে নেমে আরেক রিকশায় ওঠা কি সম্ভব? আমরা বলেছি, এভাবে না করে দুই সিটি করপোরেশনের এলাকা দুই ভাগে ভাগ করে দেয়া হোক।’
সংগঠনটির সভাপতি মো. আবু বক্কর বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের এত বড় একটি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে অন্তত বসে আলোচনা করা উচিত ছিল।’
অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে অভিযান চালানোর পাশাপাশি অনুমোদনহীন যানবাহন তৈরির উৎস বন্ধ করতে হবে। উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ধীরে ধীরে সড়কে এসব যানবাহনের সংখ্যাও কমানো সম্ভব হবে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কাজী সাইফুর নেওয়াজ বলেন, ‘উৎস থেকেই এসব নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া উচিত, যাতে সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা কমে আসে। সড়কে এসব যান কমে গেলে পুলিশের পক্ষেও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। এখন ইচ্ছেমতো এসব যান তৈরি করা যাচ্ছে, ইচ্ছেমতো ব্যাটারি আমদানি হচ্ছে। ফলে পুলিশ ও অটোরিকশাচালকদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। এভাবে টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। উৎস থেকেই এটি বন্ধ করতে হবে।’
ব্যাটারিচালিত রিকশাকে লাইসেন্সের আওতায় আনা এবং চালকদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।