
মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর দায়ে বাদীর কারাদণ্ড
মো. জিয়াউল হক, পিরোজপুর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২২:১১

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে মশারি টাঙিয়ে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীরা। ছবি: সময় সংবাদ
পিরোজপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ যেন কিছুতেই কমছে না। জেলায় একই পরিবারের নয় সদস্যের মধ্যে সাতজনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদিকে চলতি মৌসুমে এ জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩ হাজার। অন্যদিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ধীরগতিতে বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত খরচ।
পিরোজপুর সদর উপজেলার শিকারপুর এলাকার তিন বছরের শিশু মুনতাহা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ দিন ধরে জেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। মেয়ের পাশে থাকা মা অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তিনিও একই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুধু মুনতাহা কিংবা তার মা নন, নয় সদস্যের এই পরিবারের সাতজনই এখন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন।
রোগীদের অভিযোগ, ডেঙ্গু চিকিৎসায় নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা জরুরি হলেও সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে তিন থেকে চার দিন সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্ত ও প্লাটিলেট পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন অতিরিক্ত অর্থ গুনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
শিশু মুনতাহার বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন সাতজনের রক্ত পরীক্ষা করাতে অনেক টাকার প্রয়োজন হচ্ছে। হাসপাতালে যদি দ্রুত রক্তের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো যেত, তবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অনেক সুবিধা হতো।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ১০০ শয্যার পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা তিনশরও বেশি। তীব্র শয্যা সংকটের কারণে বেড না পেয়ে মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেক রোগীকে। এমন পরিস্থিতিতে গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগীদের বাধ্য হয়েই ছুটতে হচ্ছে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
শুধু শিশু মুনতাহার পরিবারই নয়, জেলা হাসপাতালে এখন এমন অনেক রোগী রয়েছেন, যারা পরিবারের একাধিক সদস্যকে নিয়ে ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরও ৭২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৮৯ জন। আর চলতি বছর এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪০৪ জনে।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসকদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতে রোগীর সংখ্যা তিনশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে শুধু হাসপাতালের চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে এটি প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
একই পরিবারের একাধিক সদস্য আক্রান্ত হওয়ায় যেমন চিকিৎসার ব্যয় ও ভোগান্তি বাড়ছে, তেমনি হাসপাতালেও তৈরি হয়েছে শয্যা সংকট। এ অবস্থায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও কার্যকর জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।