
প্রত্যাশা অনুযায়ী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৩২

অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির ও পুলিশ হাউজিং সোসাইটিতে তার সেই কন্টেইনারের বাড়ি। ছবি: সময় সংবাদ
রাজধানীর খিলক্ষেতে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের বাসায় ডিজে পার্টির ঘটনায় আটক ৮৫ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ওএসডি করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই ঘটনায় আটক ২৬ নারীকে ১৫ দিন এবং বাকি ৫৯ জনকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
এর আগে সোমবার গভীর রাতে ভাটারা থানাধীন পুলিশ হাউজিং সোসাইটি-১ এলাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের ওই কন্টেইনারের ডুপ্লেক্স বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় সেখানে ডিজে পার্টির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন চলছিল। সেখান থেকে মদ, গাঁজাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বাড়িটি অনলাইনে এয়ারবিএনবি অ্যাপের মাধ্যমে ভাড়া দিতেন অতিরিক্ত ডিআইজি জহির। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মানুষ বাড়িটি ভাড়া নিয়ে রাতযাপন কিংবা পার্টি করতেন। সেখানে তরুণ-তরুণীদের ডিজে পার্টির নামে অবাধে অসামাজিক কার্যকলাপ চলত এবং সেবন করা হতো নেশাজাতীয় দ্রব্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুলিশ হাউজিং সোসাইটি-১-এর ভেতরে খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ওই বাড়ির দূরত্ব মাত্র ৫০ গজ। অভিযানের রাতে পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের বহনকারী ছয়টি প্রাইভেট কার এখনো বাড়ির পাশেই পড়ে আছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির বলেন, ‘২৬টি মেয়ে ছিল, ইয়ং উঠতি বয়সের, ২০-২২ বছর। ম্যাক্সিমাম মেয়েরা হলো ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া। বেসরকারি ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রী, ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্রী সেখানে আরও একজনও ছিল। তারপরে ছাত্রও ছিল, ব্যাংকারও ছিল। ওরা ছিল এবং ওরা ডিজে পার্টির নামে সেখানে গানের তালে তালে এই অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় বা একজন আরেকজন ইয়ে করে নাচতেছিল আর কি। সীসার যে নেশাটা করে, সেটা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল। মাসে ২০-২২টা প্রোগ্রাম হতো এবং অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে এখানে রেজিস্ট্রেশন করা হতো।’
তবে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি জানা ছিল না দাবি করে ওএসডি হওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির বলেন, ‘জন্মদিনের পার্টি করার জন্য ভাড়া চেয়েছিল। কিন্তু ভাড়াটিয়া যদি ভাড়া নিয়ে যদি ওখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে, প্রতারণার ব্যবসা করে, প্রসটিটিউশন করে, এর জন্য তো বাড়িওয়ালা কিভাবে দায়ী হয়? বাড়িওয়ালা জানতে পারলে তাকে বের করে দিবে, আর জানতে পারলে তাকে আর ভাড়া দিবে না।’