
যুবলীগ নেতা সন্দেহে আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিলেন জামায়াত নেতারা
প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১:৬

সরাইল থানায় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সংগৃহীত ছবি
সরাইল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে দুর্গাপূজায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কিংবা সৌজন্যমূলক আচরণ না পেয়ে থানা কক্ষে বসে ওসির ওপর ক্ষোভে চটেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সরাই থানার ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রুমিন ফারহানা ওসির বিরুদ্ধে ঘুস, দুর্নীতি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করার মতো ঘটনার অভিযোগ তুলেন।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সরাই থানায় অবস্থানকালে থানার বাইরে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপির পক্ষে এবং ওসির বিরুদ্ধে কয়েকশো লোক স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় পুরো এলাকায় এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়।
সরাইল থানা কক্ষে বসে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, ‘কতবার রিকোয়েস্ট করেছি যে নিরাপত্তা দেয়া হোক। আমাকে বিজয়নগরে নিরাপত্তা দিয়েছে, আমাকে আশুগঞ্জে নিরাপত্তা দিয়েছে। আইন আছে যে নির্বাচিত এমপি নিরাপত্তা চাইলে লোকাল এরিয়াতে হবে। গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগের সময় একজন এমপি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর এবং উনি মারা যাওয়ার পর এই আইনটা হয়। উনি আমার লোকের ফোনই ধরেন না এবং বলেন, উনি নির্বাচিত এমপি, ওনার নিরাপত্তা মানুষ দেবে। তো এজন্যই মানুষ যা দেখছেন, বাইরে আরও ৫ থেকে ১০ হাজার মানুষ আছে। তো ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা লাগবে, তাই না? সো মানুষ আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আর ওনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটার থেকে পয়সা নেয়া, আপনার বালু, ইটের ভাটার পয়সা নেয়া ইত্যাদি বিস্তর অভিযোগ। কোনো ঘটনা ঘটলে আপনারা জানেন যে এলাকাটা দাঙ্গাপ্রবণ। দাঙ্গা হওয়ার পরে যখন সব শান্ত হয়, তখন ওনারা ধীরে সুস্থে যান। এই বিষয়গুলো আমি আজকে জানতে এসেছিলাম। এবং উনি যে ব্যবহার আমার সঙ্গে করেছেন, সেটা একজন নির্বাচিত এমপির সঙ্গে করা যায় না।’
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, ‘সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এসেছিলেন। উনি এক দেড়শো লোক নিয়ে থানার মধ্যে হৈচৈ করে একটা অস্থিরতা ও মব তৈরি করেছেন। আমার অফিস কক্ষের মধ্যে কয়েকশো লোক ঢুকে এখানে একটা বিব্রতকর পরিস্থিতর সৃষ্টি করেছে। শুধু তাই নয়, উনি কিছু লোককে শিখিয়ে এনেছেন, যারা আমার বিরুদ্ধে আজেবাজে কথাবার্তা বলছেন, যা আমি প্র্যাকটিস করি না। উনি বলছেন, আমি নাকি কোনো এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গিয়ে ভাত খেয়ে এসেছি। আমি কখনও কারও দাওয়াতেই যাই না। বিয়ের দাওয়াতেও যাই না। রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম ছাড়া কোনো কোনো খাবার-দাবার, খানাপিনায় অ্যাটেন্ড করি না। শুধু সরকারি প্রোগ্রাম যেখানে ইউএনও মহোদয় থাকেন এবং আমি থাকি, ম্যাজিস্ট্রেট থাকেন, তখন আমি যাই। উনি আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
ওসি বলেন, ‘উনি লোক সাজিয়ে নিয়ে এসেছেন। এক লোক বলেছেন, আমাকে নাকি মামলার আসামি ছাড়ার ব্যাপারে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছেন। লোকটাকে আমি কখনও দেখেছি বলে মনে পড়ে না। আসামিরা আসে, অফিসাররা আসামি ধরে হাজতে পাঠায়, আবার কোর্টে চলে যায়। আমার সঙ্গে ইন্টারোগেশনে কোনো প্রয়োজনই হয় না। সে নাকি আমাকেই ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে! এটা তো ওনার শেখানো বিষয়। উনি বলছেন যে, আমার বিরুদ্ধে বলেছে যে আমি ব্রিকফিল্ড থেকে টাকা নিই। ব্রিকফিল্ড এখানে হাওড় অঞ্চল, সবগুলো পানির নিচে ডুবানো আছে। উনি এই অভিযোগ কোত্থেকে আনলেন? এতে আমি খুব দুঃখ পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘পূজার মধ্যে আমাদের কঠিন প্রোগ্রাম ছিল। আমরা সামগ্রিকভাবে পুরো থানা এলাকার পূজামণ্ডপকে নিরাপদে রেখেছি। উনি বলছেন, রেকর্ড আছে। তো রেকর্ড তো উনি দেখাতে পারেননি। আমি নিরাপত্তা দেই, অস্বীকার করব কেন? এই থানা এলাকার প্রত্যেকটায় আমরা সামগ্রিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি পূজামণ্ডপে। এখন ওনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় গানম্যান চাইতে হবে, সেটা আলাদা বিষয়। উনি এসপির কাছে চাইবেন, গানম্যান ইস্যু হলে, গানম্যান থাকবে। কিন্তু আমি তো একটা টিম ওনার সঙ্গে ওইভাবে এনগেজ করে রাখতে পারি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে ওনি লোকজন নিয়ে ওনার অনুসারীদের নিয়ে আমার কক্ষে এসে অবরুদ্ধ করেছেন, মব করেছেন। থানার বাহিরে মিছিল করেছেন। আমি জানি না এখানে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো লোকজন ছিল কি না। কারণ তিনি ওদের না ধরার জন্য আমাকে সব সময় প্রেশারাইজ করেন। এই যে আজকে যারা এসেছেন, আমি চিনিও না ওদেরকে সবাইকে। হয়তো পরবর্তীকালে জানতে পারবো। ওনারা থানার মধ্যে খুব বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। আমি নোট ডাউন করে রেখেছি।’