
চুয়াডাঙ্গায় কথা কাটাকাটির জেরে যুবককে হত্যা
প্রতিবেদক, কক্সবাজার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৪১

কক্সবাজারে বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হচ্ছে কার্নিভালের আয়োজন। ফাইল ছবি
সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পর্যটকদের বিনোদনের বাড়তি সুযোগ তৈরি করতে কক্সবাজারে আয়োজন করা হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল’। আগামী ১ নভেম্বর শুরু হয়ে এ আয়োজন চলবে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে কক্সবাজার শহরের হোটেল শৈবালসংলগ্ন সমুদ্রসৈকত ও ঝাউবনের প্রায় ৩৫ একর জায়গাজুড়ে বসবে এ কার্নিভাল।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলবে এ উৎসব। এতে থাকবে প্রায় ১৬টি জোন। খাবার, কুটিরশিল্প, যোগব্যায়াম ও মেডিটেশনের পাশাপাশি শিশুদের বিনোদন, ক্যাম্পিং, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং নানা ধরনের রোমাঞ্চকর কার্যক্রমের ব্যবস্থা থাকবে।
আয়োজকদের আশা, এ কার্নিভালের মাধ্যমে কক্সবাজারে পর্যটকদের অবস্থানের সময় বাড়বে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরা যাবে দেশের প্রধান এ পর্যটন গন্তব্যকে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিও উপকৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মালিকানাধীন হোটেল শৈবাল ও মোটেল লাবনীর ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন আহমেদ বলেন, কক্সবাজারকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে ব্র্যান্ডিং করার লক্ষ্যে এ কার্নিভালের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আয়োজনটি বাস্তবায়নে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেল বাউন্ড কমিউনিকেশনসের সঙ্গে কাজ করছে পর্যটন করপোরেশন।
রায়হান উদ্দিন আহমেদ জানান, ইতিমধ্যে ঢাকায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব এম. শামীম উদ্দিন জামানের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়েছে।
কার্নিভালে খাবারের জন্য থাকবে ফুড জোন। সেখানে দেশি-বিদেশি খাবার, লাইভ ফুড স্টল, বারবিকিউ, আইসক্রিম পারলার ও জুস কর্নার থাকবে। মার্কেট জোন ও ক্র্যাফট ভিলেজে পোশাক, অলংকার, মাটির পণ্য এবং স্থানীয় কারিগরদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে।
ওয়েলনেস জোনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন করার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা। শিশুদের জন্য কিডস জোনে থাকবে আর্ট, বিভিন্ন রাইড ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম। আর ক্যাম্পিং জোনে রাত যাপনের ক্যাম্প, খোলা আকাশের নিচে পাঠাগার, নিজে বারবিকিউ তৈরি, হ্যামক, ক্যাম্পফায়ার এবং টেলিস্কোপ দিয়ে তারাভরা আকাশ দেখার আয়োজন থাকবে।
এ ছাড়া থাকবে লাইভ আর্ট, ফটো গ্যালারি, খোলা আকাশের নিচে সিনেমা দেখার ব্যবস্থা, ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) জোন ও সার্কাস টেন্ট। সমুদ্রসৈকতে কায়াকিং, বাঞ্জি জাম্পিং, গো-কার্ট, বিচ ফুটবল, বিচ হ্যান্ডবল, বিচ ভলিবল, বিচ কাবাডি, ব্যাডমিন্টন ও বালু দিয়ে ভাস্কর্য তৈরির আয়োজনও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজয় দিবস, বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষেও থাকবে বিশেষ আয়োজন। পাশাপাশি বিচ ভিউ ওপেন থিয়েটারে সমুদ্রের সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগের সঙ্গে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার ব্যবস্থা থাকবে।
রায়হান উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্থানীয় উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন অংশীজন তাদের পণ্য ও সেবা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও আলোচনা চলছে।
নিরাপত্তায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
কার্নিভালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন রায়হান উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, আয়োজক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আনসার সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ ও সাধারণ পুলিশের সমন্বিত সহযোগিতায় আয়োজনটির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।
বিদেশি পর্যটক বাড়ানোর লক্ষ্য
পর্যটন কার্নিভাল আয়োজনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের কাছে কক্সবাজারকে নতুন ও ব্যতিক্রমীভাবে উপস্থাপন এবং তাঁদের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক মানের এ কার্নিভালের আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কক্সবাজার বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য। বিগত বছরগুলোতে এখানে বছরজুড়ে পর্যটকদের আগমন বাড়লেও বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা তেমন বাড়েনি। তাই পর্যটন মৌসুমে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এবং স্পেল বাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিচালনায় এ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল শুক্কুর বলেন, থাইল্যান্ডের ফুকেট ও পাতায়া, মালয়েশিয়ার লংকাউই, ভারতের গোয়া, ইন্দোনেশিয়ার বালি, নেপাল ও ভুটানের মতো জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোতে রাতের বিনোদন ও সরাসরি সংগীত পরিবেশনার ব্যবস্থা রয়েছে। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজারেও রাত্রিকালীন বিনোদনের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না বলেন, কক্সবাজারের পর্যটনকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার প্রক্রিয়া নির্ধারণে সরকারের উচ্চপর্যায়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতীতে কী হয়েছে, তা নিয়ে পড়ে না থেকে সবার সমন্বিত পরামর্শ নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এভাবে কক্সবাজারকে একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রতিবছর কক্সবাজারে ৩০ লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হয়। তবে বিদেশি পর্যটকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সমুদ্র উপভোগের বাইরে পর্যাপ্ত বিনোদনের সুযোগের অভাব পর্যটকদের দীর্ঘ সময় অবস্থান না করার অন্যতম কারণ। দীর্ঘমেয়াদি এ কার্নিভালের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পে নতুন গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা করছেন তারা।