
পঞ্চগড়ের মেঘমুক্ত আকাশে উঁকি দিচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা, পর্যটকদের ভিড়
বিপ্লব ইসলাম, গাইবান্ধা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩৩

অভিযোগ অনুযায়ী, এলমিনা সুজি মেরি জায়েদ, রুবেল আইচ, জেহেরিশ গনি মেহেক ও জিটুনা ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন নামের বিদেশি নাগরিকদের জন্মনিবন্ধন সনদ দেয়া হয়েছে। এসব সনদে জন্মস্থান হিসেবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ঠিকানা উল্লেখ করা হলেও স্থায়ী ঠিকানা দেখানো হয়েছে মনোহরপুর ইউনিয়নের। পাশাপাশি বাঙালি নাম ব্যবহার করেও ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করা হয়েছে। এমনকি একাধিক সনদে একই নাম ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের এসব জন্মনিবন্ধন সনদ ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রায়হান ফিরোজ ও হিসাব সহকারী মোছা. মাহমুদা বেগমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করে বিদেশি নাগরিক ও ভুয়া ব্যক্তিদের নামে এসব সনদের আবেদন গ্রহণ এবং সনদ ইস্যুর অভিযোগ করেছেন মনোহরপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. আব্দুল বারী মণ্ডল।
অভিযোগকারী ইউপি সদস্য মো. আব্দুল বারী মণ্ডল জানান, জন্মনিবন্ধনে ব্যবহার করা নাম ও ঠিকানার ব্যক্তিদের ওই এলাকায় অস্তিত্ব নেই। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরাও এসব নামের কাউকে চেনেন না। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানান তিনি।
জন্মনিবন্ধন একজন ব্যক্তির পরিচয় ও বিভিন্ন নাগরিক সেবা পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নথি। যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিদেশি নাগরিক ও অস্তিত্বহীন ব্যক্তিদের নামে জন্মসনদ দেয়ার অভিযোগে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা। মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রায়হান ফিরোজের দাবি, পরিকল্পিতভাবে বিদেশি নাগরিকদের নাম ও ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে এসব আবেদন করা হয়েছে, যাতে তাদের ফাঁসানো যায়। সনদে ব্যবহৃত নাম ও ঠিকানার ব্যক্তিদের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি। বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
হিসাব সহকারী মোছা. মাহমুদা বেগম জানান, এসব জন্মসনদের আবেদনের সঙ্গে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে দেয়া কাগজপত্র, সিল ও স্বাক্ষর স্ক্যান করে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমে কাগজপত্র সঠিক মনে হওয়ায় তিনি সনদগুলো প্রিন্ট দেন। পরে ভালোভাবে যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে বুঝতে পারেন।
মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল ওহাব প্রধান রিপন জানান, তিনি কম্পিউটার চালাতে জানেন না। এ কারণে জন্মনিবন্ধন-সংক্রান্ত সব কাজ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রায়হান ফিরোজ করে থাকেন। নিবন্ধনের জন্য ওটিপি গ্রহণে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও ওই কর্মকর্তা ব্যবহার করেন বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচার দাবি করেন চেয়ারম্যান।
অভিযোগের বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান জানান, বিদেশি নাগরিক ও ভুয়া ব্যক্তিদের নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যুর বিষয়টি সম্প্রতি নজরে এসেছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ থেকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে ৫৫ জন বিদেশি নাগরিক ও ভুয়া ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধনের আবেদন ও সনদ ইস্যুর ঘটনা ঘটে।
জন্মসনদ শুধু নাগরিক পরিচয়ের নথি নয়, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই প্রান্তিক এলাকা থেকে এভাবে জন্মসনদ দেয়ার অভিযোগকে কেবল প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।