
ফৌজদারি অপরাধ হলে পদত্যাগ যথেষ্ট নয়: আসিফ
প্রতিবেদক, ভোলা
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১৪

আসিফের মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের তদারকী করতে দেখা গেলেও তার পরিবারের কোনো সদস্যকে হাসপাতালে দেখা যায়নি। ছবি: সময় সংবাদ
ভোলায় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতিকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় আসিফ (২২)নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে গণপিটুনিতে আহত আসিফকে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির চার ঘণ্টা পর রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোর ৪টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আসিফ উপজেলার রাজাপুর এলাকার মো. ধলু হাওলাদার ও হালিমা বেগম দম্পতির ছেলে। আহত বিএনপি নেতা মো. হোসেন ম্যনেজার রাজাপুর ৭নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। আহত বিএনপি নেতাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, পূর্ব বিরোধের জের ধরে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে রাজাপুরের আনন্দবাজার এলাকায় বিএনপি নেতা হোসেন ম্যানেজারকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আহতের স্বজন ও উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত আসিফকে ধরে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে গুরুতর আহত আসিফকে উদ্ধার করে পুলিশ ভোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোররাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে গুরুতর আহত বিএনপি নেতা হোসেন ম্যানেজার বর্তমানে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সকাল থেকেই পুলিশ নিহত আসিফের মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের তদারকী করতে দেখা গেলেও তার পরিবারের কোনো সদস্যকে হাসপাতালে উপস্থিত পাওয়া যায়নি।
সদর উপজেলার ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক বশির আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির পর হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।
ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে আসিফ একজনকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম করে। পরে ভিকটিমের স্বজন তাকে মারধর করলে স্থানীয় লোকজনও এতে অংশ নেয়। এক পর্যায়ে গণপিটুনিতে তিনি গুরুতর আহত হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের মরদেহের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।