
পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ না করলে নগরী অপরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে: ডিএসসিসি প্রশাসক
হিমাদ্রী শেখর
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩২

যাদুকাটা নদীর তীরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান করছেন দ্বীন ইসলাম। ছবি: সময় সংবাদ
নৌকা ঘাটের নৈশ প্রহরী দ্বীন ইসলাম নিজ উদ্যোগে বিনা বেতনে হতদরিদ্র পরিবারের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়মিত পাঠদান করে চলছেন। তিনি শিশুদের বাংলা, ইংরেজি, আর গণিতে দক্ষ করে গড়ে তুলছেন। কোনো রকম সুযোগ-সুবিধা ছাড়া দীর্ঘ তিন বছর ধরে এমন আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম সাহিদাবাদের দ্বীন ইসলাম রাতে নৌযান পাহারার কাজ করেন। দিনে শিশুদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করছেন তিনি। সুইটি আক্তার, নেহা আক্তার, রেবেকা আক্তার, মনি বেগম, জাহেদুল মিয়া,সুর্বণা আক্তার, সুরাইয়া আক্তারসহ অনেক শিশু খোলা আকাশের নিচে মাদুরের বিচালিতে গাদাগাদি করে বসে জোর গলায় স্পষ্ট ভাষায় ইংরেজি, বাংলা রিডিং পড়ছে। যাদুকাটা নদীর তীরে ছোট্ট উড়ার (অস্থায়ী নিবাস) পাশে চটের মাদুর বস্তা পেতে প্রতিদিন দুপুরে থেকে বিকেল পর্যন্ত তারা লেখাপড়া করে নৈশ প্রহরী দ্বীন ইসলামের কাছে।
পাঠদানের নূন্যতম পরিবেশ ছাড়াও যে পড়ানো যায় এটি প্রমাণ করেছেন দ্বীন ইসলাম। দ্বীন ইসলামের চক, ডাস্টার, ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়াই শিশুদের চারপাশে ঘুরে ঘুরে পাঠদান করেন। ছাত্র-শিক্ষক সবার গায়ে জীর্ণশীর্ণ পোশাকই বলে দেয় শুধু মাত্র সদিচ্ছার জেরেই তারা এখানে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর মিশনারী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে যান ভারতের তামিলনাড়ু। সেখানের নামকড়া কলেজে পড়ালেখার একপর্যায়ে বাবা মারা যাওয়ার পর অর্থাভাবে উচ্চ শিক্ষা শেষ না করে দেশে চলে আসেন। নিজে লেখাপড়া শিখতে না পারলেও এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা যেন ভালো করে পড়ালেখা শিখতে পারে তাই এমন উদ্যোগ বলে জানালেন তিনি।
দ্বীন ইসলাম বলেন, পড়ালেখা শেষে শিক্ষকতা পেশায় যোগদানের ইচ্ছে ছিল। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষক হতে না পারলেও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পাঠদান করে আত্মতৃপ্তি পাই। রাতে ঘাটে নৌযান পাহারা দিয়ে দিনে শিশুদের পড়িয়ে সময় কাটে।
তার স্ত্রী রেজিয়া আক্তার বলেন, আমার স্বামী কাজ পাগল মানুষ। ঘরবাড়ি সহায় সম্বল কোনো কিছুই নেই তার। রাত জেগে পাহারাদারের কাজ করে দিনে শিশুদের পাঠদান করে যাচ্ছেন। এমন মানুষ খুব কমই আছে।
সাহিদাবাদ গ্রামের আব্দুল মালেক বলেন, দ্বীন ইসলামের কাছে শিশুরা বিনা বেতনে পড়ালেখা করে। এলাকার দরিদ্র শ্রমজীবীর সন্তানরা তার কাছে নিয়মিত পড়তে আসে। শিক্ষার কোনো পরিবেশ নেই তারপরও দ্বীন ইসলাম আন্তরিক ভাবে শিশুদের পড়ালেখা করায়।