
আদালতে তাজমীন হত্যার দায় স্বীকার অটোরিকশা চালক সুমনের
কুমিল্লার দুই উপজেলা
ইসতিয়াক আহমেদ, কুমিল্লা
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩৯

কুমিল্লায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাসেবার নামে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও রক্ত সংগ্রহের সময় বারবার ভুলভাবে সুই প্রবেশ করানোর অভিযোগ, কোথাও নেই সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত চিকিৎসক। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে চিকিৎসাসেবা।
এর মধ্যে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, জেলার তালিকাভুক্ত কুমিল্লা সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলার ১৯৭টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে ১২৬টির লাইসেন্সের মেয়াদ নেই। এমন পরিস্থিতিতে এসব প্রতিষ্ঠানের তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রোগী ও স্বজনরা।
রক্ত দিতে এসে ভোগান্তিতে রক্তদাতারা
রোগীর প্রয়োজনে রক্ত দিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রক্তদাতারাও। রক্ত সংগ্রহের সময় বারবার ভুল জায়গায় সুই প্রবেশ করানোর অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন রক্তদাতা। তাঁদের অভিযোগ, এমন অভিজ্ঞতা শুধু অস্বস্তিকর নয়, চিকিৎসাসেবার মান ও দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।
কুমিল্লার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দায়িত্বরত চিকিৎসকের অনুপস্থিতির অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে রোগী আসার পর অনকল চিকিৎসককে ডেকে আনা হয়। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীরা কতটা দ্রুত চিকিৎসা পাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রক্ত দিতে আসা যোবায়ের নামে এক যুবক সময় সংবাদকে বলেন, অদক্ষ লোক দিয়ে রক্ত নেয়া হচ্ছে। আমার হাতে তিন জায়গায় সুই দিয়ে ঢুকিয়ে রক্ত নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে তারপর পারেনি। পরে আরেকজন মহিলা এসে রক্ত সংগ্রহ করেছে। অথচ আমি অসংখ্য বার বিভিন্ন রোগীকে হাসপাতালে রক্তদান করেছি। এমন পরিস্থিতি পড়তে হয়।
মাহফুজ নান্টু নামে একজন বলেন, কুমিল্লা বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকের অবস্থা খুব খারাপ। এইসব হাসপাতাল ক্লিনিকগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকে এতে করে সেবা নিতে আসা রোগীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে। টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিতে এসে বরং স্বজনদের মাঝে তৈরি হয় স্বাস্থ্য ঝুঁকির ভয়।
জহিরুল ইসলাম আজিম নামে এক রোগীর স্বজন বলেন কুমিল্লা আসছি ভালো সেবা পেতে। অথচ এসে চিকিৎসক পাওয়া যায় না। রোগীর হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসককে কল করা হয়। চিকিৎসক আসতে আসতে সময় লাগে এক থেকে দুই ঘণ্টা। এতে করে ভোগান্তি পড়তে হয় রোগী ও স্বজনদের। অনেক সময় রোগীর অবস্থাও খারাপ হয়ে যায় অপেক্ষা করতে করতে।
কুমিল্লা সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলার ১৯৭ প্রতিষ্ঠানের ১২৬টির লাইসেন্সের মেয়াদ নেই
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নথিতে কুমিল্লা জেলার তালিকাভুক্ত ১৯৭টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১২৬টির লাইসেন্সের মেয়াদ নেই বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশের লাইসেন্সের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. জহিরুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, কুমিল্লায় অনেক হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সের মেয়াদ নাই আবার কিছু কিছু হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সও নাই। আমরা তাদের চিঠি ইস্যু করেছি তাছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকার বিষয়টাও অনেকের কাজ থেকে জেনেছি। আমরা এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
রোগী ও স্বজনদের প্রত্যাশা, চিকিৎসাসেবার নামে অনিয়ম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নজরদারি জোরদার করবে এবং যেসব প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।