
সিলেটে মুহূর্তেই উধাও ট্রেনের টিকিট, তদন্তে পিবিআই
প্রতিবেদক, চুয়েট
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৭

চুয়েট ক্যাম্পাসে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অচলাবস্থার ১৬ দিনেও কাটেনি সংকট। শিক্ষার্থীদের 'শাটডাউন' কর্মসূচির পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধর্মঘটও চলছে। চলমান এই আন্দোলনের মাঝেই নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকে যাওয়াকে কেন্দ্র করে।
এর প্রতিবাদে বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখা ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন চুয়েট কর্মচারী সমিতির সদস্যরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা হয়। পরে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাও দেওয়া হয়।
চুয়েট কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘চুয়েটের চিরাচরিত নিয়ম অনুসারে কম্পট্রোলার ও সহকারী কম্পট্রোলারের স্বাক্ষরেই বেতন-ভাতা দেওয়া হতো। কিন্তু এবার নতুন উপাচার্য বেতন আটকে দিয়েছিলেন। এর প্রতিবাদে আমরা ব্যাংক ঘেরাও করে অবস্থান নিই। এরপর আমাদের বেতনের মেসেজ এসেছে। আমাদের দাবির মুখে চুয়েটের চিরাচরিত নিয়ম অনুসারেই আমাদের বেতন দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিককে বেতন-সংক্রান্ত বিষয়ে ইমেইল করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এতে উপাচার্যের পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকে বেতনের বিল পাঠানোকে ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’ উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে চুয়েট আইন ২০০৩-এর ধারা ১৩(৭)-এর উল্লেখ করে বলা হয়, উপাচার্যের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ।
উপাচার্যের ওই ইমেইলের পরই বেতন-ভাতা আটকে যায় বলে জানিয়েছিলেন সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক। বিষয়টি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছিল। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরাও। পরে বেতন-ভাতা আটকে ক্ষমতা প্রদর্শনের অভিযোগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে আবার শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী গোলাম মোর্শেদ রাতুল বলেন, ‘উপাচার্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকিয়ে তার হীন মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আন্দোলনের মুখে সমস্যার সমাধান হলেও এতগুলো মানুষের পেটে লাথি দেওয়ার চিন্তা তিনি কীভাবে করতে পেরেছিলেন? চুয়েটে এমন অনেকেই রয়েছেন, সামনে যাদের ধর্মীয় উৎসব। এমন সময়ে উপাচার্য হিসেবে তিনি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ায় প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি কতটা যোগ্য। ক্যাম্পাসে আসার পূর্বেই তিনি যে ধরনের কার্যক্রম শুরু করেছেন, তাতে তাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।’