
সিলেটে হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে স্বজনদের ক্ষোভ
প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৫৬

কলোনির প্রায় ৮০০ ফুট সড়কের দুই পাশের দেয়ালে গড়ে তোলা হয় বাগান। অব্যবহৃত ঝুড়ি, বালতি ও মগকে টব হিসেবে ব্যবহার করে দেয়ালে লাগানো হয় নানা প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহার। ছবি: সময় সংবাদ
ময়মনসিংহের বাঁশবাড়ি কলোনির ছোট্ট রাস্তার দুই পাশের সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নজর কেড়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একটি ছবি দেখে কলোনিবাসীর এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিষয়টি সরেজমিনে দেখতে এবং এ ধরনের উদ্যোগকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেয়ার সম্ভাবনা যাচাই করতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাঁশবাড়ি কলোনি পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেন, মানুষের বসবাসের জায়গা পরিচ্ছন্ন রাখা, রাস্তাঘাটের পরিবেশ সুন্দর করা এবং গাছ ও ফুলের মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মানসিক সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি। বাঁশবাড়ি কলোনির উদ্যোগ দেখে আমি অভিভূত। এ ধরনের উদ্যোগের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে কীভাবে অন্য এলাকার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে চাই। দেশের বিভিন্ন শহরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে এ উদ্যোগের ছবি পৌঁছে দিয়ে নিজ নিজ এলাকার মানুষকে পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নে উৎসাহিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
দেশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন পরিবেশমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর কথা বললেও তাদের লক্ষ্য ছয় কোটি গাছ লাগানো। কিছু গাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী করে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের প্রজাতি নির্বাচন এবং উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের কাজ চলছে। অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে, এমন গাছের চারা উৎপাদন ও নার্সারির মাধ্যমে সেগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
যেভাবে হয়েছে কলোনীর সবুজায়ন:
২০২৩ সালে নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশবাড়ি কলোনির ভাঙাচোরা সড়ক ও নালা সংস্কার করে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। সংস্কার করা সড়ক ও উন্নত পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার পরিবেশ বদলে দেয়ার পরিকল্পনা করেন চার তরুণ—মুরাদ হাসান কানন, মেহেদী হাসান মুহিত, সাইফুল ইসলাম ও উত্তম সরকার। তারা এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করে দেয়ালে বাগান করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বাসিন্দারাও তাদের উদ্যোগে সমর্থন দেন।
এরপর মাত্র তিন মাসে কলোনির প্রায় ৮০০ ফুট সড়কের দুই পাশের দেয়ালে গড়ে তোলা হয় বাগান। অব্যবহৃত ঝুড়ি, বালতি ও মগকে টব হিসেবে ব্যবহার করে দেয়ালে লাগানো হয় নানা প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহার। কোথাও অর্কিড, কোথাও সুগন্ধি ফুলের গাছ। রাতে হাসনাহেনার সুবাস ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। সবুজায়নের এ দৃশ্য সেইসময় ছড়িয়ে পড়ছে প্রশংসা করেন নেটিজেনরা।