
জিএম কাদেরের বাসায় হামলার অভিযোগ
অপূর্ব অপু, বরিশাল
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪০

মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সরকারিভাবে খাদ্যসহায়তা হিসেবে প্রত্যেক জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও অর্ধেকের বেশি জেলের কাছে এখনও সেই সহায়তা পৌঁছায়নি।
বিভাগের বিভিন্ন জেলা ঘুরে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকেই সংকটে দিন কাটাচ্ছেন জেলেরা। সরকারি সহায়তার অপ্রতুলতা ও বিতরণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে উপকূলীয় এলাকায় বাড়ছে ক্ষোভ।
দ্বীপজেলা ভোলায় মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন। এর বাইরে অনিবন্ধিত জেলে আছেন আরও অন্তত ৪০ হাজার। জেলার ৬৯টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র আটটিতে সরকারি চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। বাকি ৬১টি ইউনিয়নের জেলেরা এখনও সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ভোলার চরফ্যাশন এলাকার জেলে ইউসুফ আলী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার কারণে নদীতে নামতে পারছি না। সরকার যে ২৫ কেজি চাল দেয়ার কথা বলেছে, তা তো দূরের কথা, এখনও চালের স্লিপই হাতে পাইনি। পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে ধারদেনা করতে হচ্ছে।’
একই চিত্র বরগুনায়। জেলাটিতে প্রায় ৪০ হাজার জেলে এখন পুরোপুরি বেকার। সমুদ্রে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় আগে থেকেই ঋণের বোঝা ছিল তাদের কাঁধে। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞার সময় যথাসময়ে খাদ্যসহায়তা না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।
বরগুনার পাথরঘাটার জেলে সোবহান মিয়া বলেন, ‘গত মৌসুমের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারিনি। এখন কাজও বন্ধ। চালের জন্য ঘুরেও ঠিকমতো সহায়তা মিলছে না। সামান্য এই সময়ে পরিবার নিয়ে বাঁচাই দায় হয়ে পড়েছে।’
অন্যদিকে বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়ায় কীর্তনখোলা নদীর তীরে জাল মেরামতের কাজে ব্যস্ত সময় কাটছে জেলে জলিল হাওলাদার ও মোখলেছ মিয়ার। সরকারি সহায়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ‘শুধু ২৫ কেজি চাল দিয়ে পুরো সংসার চালানো অসম্ভব। চালের পাশাপাশি আমাদের নগদ আর্থিক সহায়তার দরকার ছিল।’
ঝালকাঠিতে চাল বিতরণ শুরু হলেও জেলেদের অভিযোগ, সামান্য এই চাল দিয়ে সংসার চলে না। তাই চালের পাশাপাশি নগদ অর্থসহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঝালকাঠি উপজেলা প্রশাসন।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ বলেন, ‘মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছি। জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যেসব এলাকায় এখনও চাল পৌঁছায়নি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তা বিতরণ করা হবে।’
রিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদফতরের পরিচালক মো. কামরুল হাসান জানান, চলতি নিষেধাজ্ঞায় বিভাগে প্রায় ৮ হাজার ৯৬২ দশমিক ৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব নিবন্ধিত জেলের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শিগগিরই জেলেরা সহায়তার চাল পাবেন বলেও জানান তিনি।
মৎস্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬ জন। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ৭৯ হাজার ৮৯০ জন, ভোলায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন, পটুয়াখালীতে ৭০ হাজার ৩৫৬ জন, বরগুনায় ৩৯ হাজার ৪৬৯ জন, ঝালকাঠিতে ৪ হাজার ২০০ জন এবং পিরোজপুরে ২০ হাজার ৯৪৫ জন।
ইলিশ সম্পদ রক্ষায় গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারা দেশের সব নদ-নদী, মোহনা ও সমুদ্রে মাছ শিকার নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, কেনাবেচা, মজুত ও পরিবহনও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।