
সিলেটে মুহূর্তেই উধাও ট্রেনের টিকিট, তদন্তে পিবিআই
প্রতিবেদক, ফরিদপুর
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪২

ফরিদপুরে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতার আসামি। ছবি: সংগৃহীত
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।
তিনি জানান, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানি গ্রামের বাসিন্দা আহেদ শেখের ছেলে ওমর নিখোঁজ হয়। এর চার দিন পর ওই গ্রামের একটি ঘাসখেত থেকে ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওমরের বাবা ৫ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বালিয়াকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে একই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার পিবিআইয়ের ওপর ন্যস্ত করার আবেদন করেন। ওই বছরের ৯ মে পুলিশ সদরদফতর মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই ফরিদপুরকে দায়িত্ব দেয়।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও আলামত বিশ্লেষণ করে এ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি মো. নজরুল ইসলামকে (৪৮) সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি আদালতের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রওনক জাহানের আদালতে ওমর হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তিনি। পরে আদালতের নির্দেশে নজরুলকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম আরও জানান, নজরুল আগে এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন, ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালাতেন। আদালতে দেওয়া নজরুলের জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, পরকীয়া ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতাকে কেন্দ্র করে ওমরকে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে হত্যা করা হয়। ওমরের সঙ্গে প্রতিবেশী দুই ব্যক্তির স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে এমন সন্দেহে ওই দুই ব্যক্তির একজন টাকা দিয়ে খুনিদের ভাড়া করেন। তদন্তে জানা গেছে, এ হত্যাকাণ্ডে নজরুলসহ পাঁচজন অংশ নেন।
হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে পিবিআই জানায়, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে হত্যাকারীরা ওমরকে রাস্তা থেকে অপহরণ করে একটি শূন্য বাসার বাথরুমে আটকে নির্যাতন করেন। সেখানে তাকে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়। পরদিন খুনিরা নিহতের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন যে, ৩ জানুয়ারি থেকে পুলিশ নিয়ে ওমরের বন্ধুদের বাড়িতে তল্লাশি করা হবে। এ খবর পেয়ে ২ জানুয়ারি দিবাগত রাতেই ওমরকে ছুরি দিয়ে গলা ও ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে লাশটি ঢোলজানি গ্রামে একটি ঘাসখেতে ফেলে রাখা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. তাজুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।