
রামপুরায় স্লুইস গেটের কাছে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪২

রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় আখচাষিদের প্রণোদনা বিতরণ উদ্বোধর করছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সময় সংবাদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইদের যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ আছে, সেই কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। সরকার গঠনের সাত দিনের মাথায় আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রেখেছিলাম। সমগ্র বাংলাদেশের ১৩ লাখ কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি লোন আমরা সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছিলাম।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় উপস্থিত আখচাষিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ৩৮ থেকে ৩৯ হাজারের মতো আখচাষি ভাইদের সরকারের পক্ষ থেকে আমরা একটি প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছি, যাতে আগামী মৌসুমে আখ চাষ করার জন্য তাদের কিছুটা হলেও কষ্ট কম হয়। কারণ বিএনপি বিশ্বাস করে, এই দেশের কৃষক বাঁচলে এবং কৃষি বাঁচলে তাহলেই দেশ বেঁচে থাকবে।’
কৃষকদের সহায়তায় ‘ফার্মারস কার্ড’ বা কৃষক কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক, ভূমিহীন ও বড় কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ এরইমধ্যে এগিয়ে চলেছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এর কাজ শেষ হবে। এ বছরই সমগ্র বাংলাদেশে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ৪০ লাখ ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষক ভাইয়ের কাছে আমরা কৃষি কার্ড পৌঁছে দেব। কোনো কৃষক ভাই যদি বছরে দুটো বা তিনটি ফসল উৎপাদন করেন, তাহলে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে অন্তত একটি ফসলের সার, বীজ ও কীটনাশক যতটুকু সম্ভব পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করব, যাতে তার কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়।’
কৃষক কার্ডের অন্যান্য সুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে চাষিরা যেমন ক্ষেতের ফসলের বীমা করতে পারবেন, একইভাবে কাজের সুবিধার জন্য সহজেই ব্যাংকঋণও গ্রহণ করতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়, এই কার্ডের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে জানা যাবে আগামীকাল বৃষ্টি হবে কি হবে না। ফলে কৃষক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন তিনি বীজ বপন করবেন নাকি সার দেবেন। এরকম প্রায় ১০টি সুবিধা থাকবে সেই কৃষক কার্ডে।’
সেচ সুবিধা ও খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘কৃষক ভাইয়েরা যাতে সঠিকভাবে সেচ সুবিধা পান এবং গ্রামের মা-বোনদের যাতে দূর থেকে কষ্ট করে পানি আনতে না হয়, সেজন্য সারা দেশে আমরা আবার খাল খনন এবং নদী সংস্কার কর্মসূচি শুরু করেছি। আগামী পাঁচ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। এর মধ্যে গেল আট মাসে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া পানির সমস্যা দূর করতে উত্তরাঞ্চলে তিস্তা এবং রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে আমরা দুটো ব্যারেজ তৈরি করব। বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর যেতে হয় আমরা যাব এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের কাজ শুরু ও শেষ করব।’
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ বেড থেকে ১৫০ বেডের হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। সেখানে শিশু এবং মা-বোনদের জন্য আলাদা বেড ও কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া গেল জুনের বাজেটে কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিসের ওষুধ এবং হার্টের চিকিৎসার সরঞ্জামের ওপর ট্যাক্স কমিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে চিকিৎসার খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে।’
কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শ্রমিক ভাইয়েরা যাতে বেকার না থাকেন, সেজন্য সরকার গঠনের পর সাত মাসে সারা দেশে বন্ধ থাকা ৬টি মিল-কারখানা বিভিন্ন উদ্যোক্তার মাধ্যমে চালু করা হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মা-বোনদের শিক্ষা অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে করা এবং ভালো ফলাফলকারীদের উপবৃত্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর মা-বোনদের অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করতে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে আর্থিক সহযোগিতা পৌঁছে দেয়া হবে। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবে সরকার।’
দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের পরিষ্কার তথ্য আছে, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে এবং দেশে ভ্রান্তি ছড়ানো একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ও রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। দেশের উন্নয়নের গতি এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’