
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড হওয়া দুই বাংলাদেশির লাশ আনার চেষ্টা চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী
সঞ্জয় কর্মকার অভিজিৎ
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪১

মাদারীপুরে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে অবৈধ প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ছবি: সময় সংবাদ
সরেজমিনে দেখা যায়, গোপালগঞ্জ-মাদারীপুরের সীমান্তবর্তী মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাটে অবস্থিত টেকেরহাট জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে। নিয়ম না মানা ও শর্ত পূরণে গাফিলতির কারণে ২০২২ সালে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপরও চার বছর ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে হাসপাতালটির কার্যক্রম। সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও তাঁর কক্ষে ঝুলছে তালা।
এদিকে পাঁচতলার মোড় এলাকায় লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ল্যাব ও হাসপাতালের সেবা দেয়া হচ্ছে দোতলার টিনশেড ঘরে। বাইরে চকচকে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নামিদামি চিকিৎসকদের ছবি ও তথ্য দিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা অনেক চিকিৎসকই সেখানে বসেন না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে, টিনশেড ঘরে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া যাবে না। কিন্তু সেই নিয়মের তোয়াক্কা করছে না প্রতিষ্ঠানটি।
একইভাবে টেকেরহাট বন্দরে গড়ে উঠেছে এক ডজনের বেশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানে অনুমোদনের বিষয়ে না জেনেই সেবা নিতে আসছেন রোগীরা। দৃশ্যমান অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করছেন প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা। লাইসেন্স নবায়নের জন্য একাধিক দফতরের কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে অনেক ক্লিনিক মালিক লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, মাদারীপুরের পাঁচটি উপজেলায় ৭১টি প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালের মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র সাতটির। অন্যদিকে, ১০৬টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে অনুমোদন নিয়ে চলছে মাত্র সাতটি। লাইসেন্স ছাড়াই বছরের পর বছর এসব প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালালেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্বাস্থ্য বিভাগ। ফলে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা।
টেকেরহাট জেনারেল হাসপাতালের স্টাফ সুজন মৃধা বলেন, ‘লাইসেন্স আছে কি নেই, সেটা আমরা কেউই বলতে পারি না। সেটি জানে মালিকপক্ষ। আমরা শুধু দায়িত্ব পালন করি।’
লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ল্যাব ও হাসপাতালের পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের আগেও লাইসেন্স ছিল। শুধু এক বছর মালিকানা জটিলতায় লাইসেন্স করতে পারিনি। বর্তমানে হাসপাতালের পুরো কার্যক্রম নতুন ভবনে সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। আগামীতে লাইসেন্স নবায়ন করা হবে।’
রোকেয়া হাসপাতাল ও মলি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক মলি আক্তার বলেন, ‘লাইসেন্স করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করছি। অনেক দফতরের কাগজ লাগে। এ কারণে সময়ও লাগছে। হয়তো আগামী মাসের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরে আবেদন করতে পারব।’
স্কয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মন্টু বিশ্বাস বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের বয়স এক মাস। লাইসেন্স তো আকাশ থেকে পড়বে না। পেতে সময় লাগে। আমরাও দ্রুত লাইসেন্স করার চেষ্টা করছি।’
তবে শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. শরিফুল আবেদিন কমল জানান, অবৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে। এরই মধ্যে অনুমোদনহীন হাসপাতালের তালিকা করেছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘অবৈধভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চলার সুযোগ নেই। লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করতে সিভিল সার্জনকে বলা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। কোনো অবস্থাতেই কাউকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে দেয়া হবে না।’