
পূজামন্ডপ পরিদর্শনে চট্টগ্রাম যাবেন প্রধানমন্ত্রী, বইছে আমেজ
প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২২

এখান থেকে পছন্দের বাদ্যযন্ত্র আর বাদক ভাড়া করে নিয়ে যান পূজামন্ডপের আয়োজকরা। ছবি: সময় সংবাদ
ঢাকের শব্দে চারদিকে ভিন্ন রকম এক মুখরতা। অন্যরকম সুরের মূর্ছনা। যন্ত্রী নেচে-গেয়ে দেখাচ্ছেন বাদ্যযন্ত্রের সুরের খেলা। প্রতি বছর শারদীয় দুর্গোৎসব এলেই বাদ্যযন্ত্র আর যন্ত্রীদের এমন মুখরতার দেখা মিলে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ঢাকের হাটে। এবারও দেখা গেল একই চিত্র।
উৎসব-পার্বনে বাদ্যযন্ত্রের বিকল্প নেই। আর ঢাক-ঢোল ছাড়া দুর্গাপূজা ভাবাই যায় না। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে দেশের একমাত্র বাদ্যযন্ত্রের এ হাট জানান দেয়, দেবী দুর্গার আগমন। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা যন্ত্রীরা নেচে-গেয়ে আর যন্ত্র বাজিয়ে আকৃষ্ট করেন ক্রেতাদের।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের হাট। প্রায় ৫'শো বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী এই হাট সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে। উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে দেশের একমাত্র বাদ্যযন্ত্রের হাট।
নাম ঢাকের হাট হলেও কটিয়াদীর বাদ্যযন্ত্রের হাটে আসলে ঢাক বা অন্য কোনো বাদ্যযন্ত্র বিক্রি হয় না। মূলত পূজামণ্ডপের জন্য একই সাথে যন্ত্রীসহ বাদ্যযন্ত্র ভাড়া করেন পূজারীরা। এখান থেকে পছন্দের বাদ্যযন্ত্র আর বাদক ভাড়া করে নিয়ে যান পূজামন্ডপের আয়োজকরা।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দেখা গেল কেউ বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বাজারে আসছেন, কেউ আসছেন মন্ডপের জন্য যন্ত্র কিনতে আবার কেউবা বাদকসহ যন্ত্রী নিয়ে ফিরেছেন বাড়িতে।
যন্ত্রীরা জানালেন, হাটে বাদ্যযন্ত্রের বিক্রি হচ্ছে ভাল। হাটে একই সাথে যন্ত্রীসহ ঢাক, ঢোল, বাঁশি, ও ছোট-বড় ব্যান্ড দলও ভাড়া দেয়া হয়। দরদাম ঠিক করে চূড়ান্ত করা হয় বায়না। আর যন্ত্রীসহ পছন্দের বাদ্যটি পেয়ে খুশি ক্রেতারাও। তবে এবার বেশি টাকায় বাদ্যযন্ত্র ও যন্ত্রী ভাড়া করতে হচ্ছে বলে জানান পূজারীরা।
হাটে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় মিলছে একটি ঢাক। আবার ছোট-বড় ব্যান্ডদল চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায়।
জনশ্রুতি আছে, ৫’শ বছর আগে সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় কটিয়াদী উপজেলা সদরের চারিপাড়া এলাকায় তার রাজপ্রাসাদে প্রথম দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। রাজবাড়ির পূজায় ঢাক, ঢোল, বাঁশিসহ অংশ নিতে খবর পাঠানো হয়, বিক্রমপুর পরগণায় যন্ত্রীদের কাছে। পূজার সময় বিক্রমপুর থেকে আসা বাদকরা অবস্থান করেন, আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে। পূজা শেষে তারা ফিরে যান। আবার পরের বার আসেন।
এক সময় প্রতি বছর কটিয়াদী পুরান বাজার এলাকায় পূজার আগে বাদকরা এসে অবস্থান নেন। আর পূজারীরা সেখান থেকে পছন্দ মতো বাদ্যযন্ত্র ভাড়া করে নিয়ে যান।
সেই থেকে চলছে কটিয়াদী পুরান বাজারের এই হাট। দিনে দিনে পূজার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে হাটটি। হিন্দু ধর্মীয় নেতারা হাট পরিচালনা করেন। এ দিকে দুপুরে ঢাকের হাট পরিদর্শন করেন স্থানীয় এমপি এডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। হাটের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। ঢাকের হাটে বাদকদের থাকার জন্য কক্ষ নির্মাণ ও টয়লেট নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতি বছর দুর্গাপূজার সময় মহা-ষষ্টির দিন থেকে এই ঢাকের হাট বসে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ হাট চলবে আগামীকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত।