
আলজেরিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতায় সমঝোতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৯

বিএনপি নেতা ও ঢাকা-৬ আসনের এমপি ইশরাক হোসেন। ফাইল ছবি
পিস্তল হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন এবং এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইন এলাকায় একটি মাদকবিরোধী অভিযানে পিস্তল হাতে কয়েকজনকে ধাওয়া করতে দেখা যায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্তরে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়।
এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত রোববার রাতে গুঞ্জন ছড়ায়, সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ইশরাক।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি এবং তিনি তাতে সম্মতি দিয়েছেন। সেদিন কোনো ভুল হয়ে থাকলে তার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল করিনি।’
ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গেণ্ডারিয়ার যে এলাকায় তিনি গিয়েছিলেন, সেটি সব ধরনের মাদকের প্রধান বণ্টন কেন্দ্র (ডিস্ট্রিবিউশন হাব) হয়ে উঠেছে। সেখানে মাদক কারবারিদের কাছে বিপুল অর্থ ও অস্ত্র রয়েছে। বিতর্কিত অস্ত্রটির বিষয়ে ইশরাক বলেন, সেটি তার নামে নিবন্ধিত বৈধ অস্ত্র এবং আত্মরক্ষার্থেই তিনি অল্প সময়ের জন্য তা হাতে নিয়েছিলেন। সেখানে পুলিশ সহজে যেতে চায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সদ্য সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি সেখানে জমি দখল বা চাঁদাবাজি করতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু গণমাধ্যম সেই মূল উদ্দেশ্যটি ধ্বংস করে দিয়েছে। ভাইরাল ভিডিওটির মাধ্যমে আমার ব্যক্তিগত ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। সে কারণেই আমি নিজে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছি।’
পদত্যাগের পরও মাদকের বিরুদ্ধে তার ব্যক্তিগত অবস্থান ও সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন জানান, দল সিদ্ধান্ত দিলে তিনি আসন্ন মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যও শতভাগ প্রস্তুত রয়েছেন।