
সিলেটে হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে স্বজনদের ক্ষোভ
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২২:১৯

ব্যাংককের চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। আজ শুক্রবার। ছবি: বাসস
বৈদেশিক কর্মসংস্থান, তৈরি পোশাকশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধির কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিচ্ছিন্ন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির পরিবর্তে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ এবং করের আওতা সম্প্রসারণের সঙ্গে সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সবার জন্য এশিয়া: সরকারি সেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদ ও অক্সফাম ইন এশিয়া যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার আগে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও উন্নয়নকর্মীরা অংশ নেন।
সম্মেলনের ‘অর্থনৈতিক সমতা অর্থায়ন: সরকারি সেবায় সম্পদ আহরণ’ শীর্ষক অধিবেশনে ড. তিতুমীর বলেন, করোনা মহামারি এবং আগের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে দেশে নতুন করে প্রায় ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছিলেন। সুরক্ষা কর্মসূচিতে যোগ্য ব্যক্তি বাদ পড়া এবং অযোগ্যদের সুবিধা পাওয়ার মতো সমন্বয়হীনতাও ছিল।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ‘জিটুপি’ (সরকার থেকে সরাসরি ব্যক্তি) প্রক্রিয়ায় অর্থ পৌঁছে দেয়ার এই উদ্যোগে ২০৩০ সালের মধ্যে উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ১ কোটি ৬১ লাখে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমতে পারে।
এ ছাড়া ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে কৃষি উৎপাদন ও প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ০.৭ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু ও পরিবেশ সংরক্ষণে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অগ্রগতি ধরে রাখতে তিতুমীর ছয়টি প্রস্তাব পেশ করেন। এর মধ্যে রয়েছে–জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য বিশেষ বহুপক্ষীয় তারল্য-সহায়তা তহবিল গঠন, খাদ্য ও সারের চালানে গ্যারান্টি ব্যবস্থা, বৈশ্বিক সংকটে ঋণ পরিশোধ স্থগিতের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, উন্নত দেশের অব্যবহৃত এসডিআর পুনর্বণ্টন, জলবায়ু অর্থায়নে ভারসাম্য এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে (বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার) অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।
সম্মেলনে অক্সফামের নীতিপত্রের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, এশিয়ার মাত্র ১০ শতাংশ ধনীর হাতে জাতীয় আয়ের ৬০ থেকে ৭৭ শতাংশ কেন্দ্রীভূত, আর দরিদ্র ৫০ শতাংশের হাতে রয়েছে মাত্র ১২ থেকে ১৫ শতাংশ।
২০২৫ সালে এশিয়ার শত কোটিপতিদের মোট সম্পদ বেড়ে ৪ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বৈষম্যের কারণে এ অঞ্চলের ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ এখনও দারিদ্র্যের মধ্যে বা ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। এ ছাড়া এশিয়ার আনুমানিক ৪৬.৪ শতাংশ মানুষ (প্রায় ২১০ কোটি) কোনো সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার আওতায় নেই।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় অক্সফাম এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের সম্পদের ওপর বছরে ২ থেকে ৫ শতাংশ কর আরোপের সুপারিশ করেছে, যা থেকে বছরে ৭৯ হাজার ২০০ কোটি ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় সম্ভব।