
ঝিনাইদহে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৪০

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে সিপার মোস্তফা (৬৩) নামের এক ব্যক্তিকে তার নিজ বাসা থেকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার ঘটনায় একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রের (রিহ্যাব) দুই কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়।
গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে স্যার সৈয়দ রোডের একটি বাড়ির ফ্ল্যাটে ৪-৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি প্রবেশ করেন। তারা ওই ফ্ল্যাটের মালিক সিপার মোস্তফাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে জোর করে নিচে নামিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। হ্যান্ডকাফ পরিহিত অবস্থায় তাকে তুলে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে প্রতিবেশী ও অন্য ফ্ল্যাটের মালিকদের কোনো ধারণা ছিল না। সাধারণ পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ের বাইরে এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ দ্রুত অনুসন্ধানে নামে। তদন্তে জানা যায়, সিপার মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা থাকতেন। তাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য তার আপন ছোট ভাই সাবির মোস্তফা উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ‘লাইট হাউজ রিহ্যাব সেন্টার’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই সেন্টারের কর্মীরাই মূলত তাকে তুলে নেয়। এর আগে ২০২১ সালেও সিপার মোস্তফাকে রিহ্যাবে দেওয়া হয়েছিল।
সাধারণ নাগরিক বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের হ্যান্ডকাফ ব্যবহারের কোনো আইনি বৈধতা নেই। এ বিষয়ে 'লাইট হাউজ'-এর মালিক ডা. মো. জসিম উদ্দীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু রোগীকে বা মাদকাসক্তকে নেওয়ার সময় তারা হ্যান্ডকাফ ব্যবহার করে থাকেন।
বেআইনিভাবে হ্যান্ডকাফ ব্যবহারের দায়ে পুলিশ ওই রিহ্যাব সেন্টারের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করে এবং ব্যবহৃত হ্যান্ডকাফটি জব্দ করে। গ্রেফতাররা হলেন—চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ এলাকার মো. জসিম উদ্দিন ওরফে পলাশ (৪৭) এবং টাঙ্গাইল সদর এলাকার মো. আমিনুর ইসলাম (৪২)।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম।