
চকবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিট
প্রতিবেদক, গাজীপুর
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৩৩

শিক্ষার্থী আয়ানের কেনা আইফোনের ক্যাশ মেমো এবং অভিযুক্ত শ্রীপুর থানার এসআই মেহেদী হাসান টিটু। ছবি: সংগৃহীত
শপিং মল থেকে কেনা দামি আইফোনকে ‘চোরাই’ আখ্যা দিয়ে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সেটি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। শুধু মোবাইল নেয়াই নয়, উল্টো লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা ঘুষও নিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ (সফিক মোড়) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম আবুল হাসনাত আয়ান। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম মেহেদী হাসান টিটু। তিনি শ্রীপুর থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আয়ান জানান, গেল ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের ‘এপেল হট’ নামের একটি দোকান থেকে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি ব্যবহৃত আইফোন ১৬ প্রোম্যাক্স কেনেন তিনি। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এসআই মেহেদী হাসান তার বাসায় গিয়ে জানান, ফোনটি চোরাই। চট্টগ্রাম থেকে এক নারীকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে এটি চুরি করা হয়েছে। এ সময় আয়ান তার ফোন কেনার ক্যাশ মেমো ও বক্স দেখান এবং এসআইয়ের সামনেই ওই দোকানের বিক্রেতাকে কল দিয়ে কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আয়ান বলেন, ‘সব প্রমাণ দেখানোর পরও এসআই আমাকে বলেন, ফোন যেহেতু আপনার কাছে পেয়েছি, সমস্যা আপনারই। আমার মামা তখন তাকে ওই দোকানে গিয়ে অভিযান চালানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি উল্টো আমাকে ফোনসহ ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে আমার কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যান।’
এসআইয়ের মোবাইল নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ধারণ করে রাখলেও তা আয়ানকে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় নিজের আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির বিচার চেয়েছেন ওই শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই মেহেদী হাসান টিটু বলেন, ‘গেল ১৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের এক নারীকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তার বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও একটি আইফোন চুরি হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হলে তারা আমাকে মোবাইলটি উদ্ধারের দায়িত্ব দেয়। সেই নির্দেশনায় আমি মোবাইলটি উদ্ধার করেছি।’
তবে বৈধভাবে কেনা শিক্ষার্থীর আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। উল্টো স্থানীয় এক সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে এবং নিজেকে সরকারি দলের এক শীর্ষ নেতার ভাগনে পরিচয় দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি প্রতিবেদককে চা পানের দাওয়াতও দেন।
এদিকে ট্র্যাকিংয়ের নামে ১৭ হাজার টাকা নেয়ার বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন বলেন, ‘এসআই কেন ১৭ হাজার টাকা নেবে? মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের কথা বলে টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই, এটি সঠিক নয়।’