
ওয়াজ মাহফিলে একহালি কমলা বিক্রি হলো ৫০ হাজার টাকায়!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। ছবি: সংগৃহীত
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় অবস্থিত দত্তনগর কৃষি ফার্মকে একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার প্রস্তাব নিয়ে কৃষিমন্ত্রী ও কৃষি সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) অ্যাটর্নি জেনারেল পৃথকভাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ও কৃষি সচিব জনাব মো: সেলিম খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী জনাব আসাদুল হাবিব দুলু উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরের সাবেক ছাত্রনেতারাও।
সাক্ষাৎকালে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে তিনি মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরের উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সেখানকার মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি—দত্তনগর কৃষি ফার্মকে আন্তর্জাতিক মানের একটি কৃষি ও গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা।
তার মতে, এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে, তরুণ প্রজন্মের জন্য উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এ অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিরও ব্যাপক বিকাশ ঘটবে। অ্যাটর্নি জেনারেল মন্ত্রীকে দত্তনগর কৃষি ফার্মসহ মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরের বিস্তীর্ণ কৃষি অঞ্চল সরেজমিনে পরিদর্শনের আমন্ত্রণও জানান।
কৃষিমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে প্রস্তাবটি শোনেন এবং কৃষিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন-ভাবনার সঙ্গে এর সামঞ্জস্যের কথা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে তিনি তার সুবিধাজনক সময়ে মহেশপুর-কোটচাঁদপুর এলাকা সফরের আশ্বাস দেন।
অ্যাটর্নি-জেনারেল আরও বলেন, মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরের মাটি অত্যন্ত উর্বর। ধান, সবজি ও আমের পাশাপাশি বর্তমানে আঙুর, ড্রাগন ফল, পেয়ারা, কলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফল ও কৃষিপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।
কিন্তু উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার ও আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা নেই। তিনি এ অঞ্চলে কৃষিপণ্য, বিশেষ করে ফলমূল সংরক্ষণের জন্য আধুনিক সংরক্ষণাগার ও হিমাগার স্থাপনের অনুরোধ জানান। কৃষিমন্ত্রী বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল কৃষি সচিব মো: সালিম খানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এবং দত্তনগর কৃষি ফার্মকে আন্তর্জাতিক মানের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার প্রস্তাব তুলে ধরেন। কৃষি সচিবও বিষয়টির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন এবং এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা ও তার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে সাক্ষাতে কোটচাঁদপুরের বলুহর মৎস্য প্রজনন ও গবেষণা কেন্দ্রকে একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কেন্দ্রে রূপান্তরের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কাছে তাদের পক্ষ থেকে সুপারিশ প্রেরণের আশ্বাস দেন।
স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও দাবির আলোকে অ্যাটর্নি জেনারেলের এই উদ্যোগ দত্তনগর কৃষি ফার্মকে একটি আন্তর্জাতিক মানের কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রযাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।