
আমরা ভারতের বিরুদ্ধে নই, আধিপত্যের বিরুদ্ধে: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক
আব্দুর রশিদ জীবন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪৫

রংপুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার একই পরিবারের ৪ জন। ছবি: সংগৃহীত
রংপুরের আলোচিত চার হত্যা মামলায় ডিএনএ পরীক্ষার ফল হাতে পেয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া খেজুর, শসা ও সিগারেটসহ বিভিন্ন আলামতের সঙ্গে গ্রেফতার দুই আসামির ডিএনএ মিলেছে। পুলিশের দাবি, তদন্তের শেষ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই দেয়া হবে চার্জশিট।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে সময় সংবাদকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, হত্যার ঘটনাস্থল ধেকে খেজুর, শসা, সিগারেটে অংশ, বোতলের সিপিসহ সংগ্রহ করা সকল নমুনা সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে আলামতে পুরুষ মানুষের নমুনা থাকার কথা বলা হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই আসামিকে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সিআইডি কার্যালয়ে নেয়া হয়। পরীক্ষা শেষে তাদের ডিএনএর সঙ্গে এর আগে পাঠানো সকল আলামতের নমুনা মিলে গেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস জড়িত তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
সনাতন চক্রবর্তী আরও বলেন, ডিএনএ নমুনার ফলাফল পাওয়া এই মামলায় তদন্তের সকল ধাপ শেষ হলো। দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেয়া হবে।
সিআইডি ও তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষক পরিবারের সদস্যদের মরদেহ উদ্ধার কার্যক্রমের সময় ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টি আলামত সংগ্রহ করেছিল সিআইডি। ঘটনার ১২দিন পর তিন দফায় সেগুলো ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এসবের মধ্যে ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল, সিগারেটের শেষাংশ, নান রুটি, শসা ও খেজুর, বেসিনের দাগ, নিহত শিশু প্রিয়মের খাতায় পাওয়া একটি লেখাসহ সংগ্রহ করা ৩৫টি আলামত রয়েছে।
এর আগে, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকা থেকে প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে আসামিদের বন্ধু সীমান্ত দাস ও দখিগঞ্জ শশ্মানের পাহারাদার বিদ্যুৎ মোহন্ত এবং মাদক সরবরাহকারী শান্ত দাস ওরফে পুঁটি শান্ত সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।