
যশোরে পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলে নিহত, বাবা হাসপাতালে
রায়দুল ইসলাম
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ২২:১

ধর্মীয় বিশ্বাস, ভক্তি ও চিরায়ত বাঙালি ঐতিহ্যের অনন্য মেলবন্ধনে সারা দেশে উদ্যাপিত হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব লক্ষ্মীপূজা। শারদীয় দুর্গাপূজা শেষে প্রথম এই পূর্ণিমা তিথিতেই দেবীর আরাধনা করা হয়, যা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ‘কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা’ নামে পরিচিত।
নবযুগ ডাইরেক্টরি পঞ্জিকা অনুযায়ী, আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টা ২৭ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড থেকে পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে। আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টা ১৮ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড পর্যন্ত এই তিথি বহাল থাকবে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই লক্ষ্মীপূজা উদ্যাপন করছেন ভক্তরা।
পূজা উপলক্ষে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রদীপের আলো, আলপনার বর্ণিল নকশা আর ধূপ-ফুলের সুবাসে সেজে উঠেছে চারপাশ। ধূপের মিষ্টি ধোঁয়া আর পুরোহিতের মন্ত্রধ্বনিতে সৃষ্টি হয়েছে এক পবিত্র আধ্যাত্মিক আবহ। ধন-সম্পদ, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির দেবী মা লক্ষ্মীর চরণে প্রার্থনা নিয়ে ভক্তদের একটাই আকুতি–সংসারে আসুক অনাবিল শান্তি, ঘুচে যাক জীবনের সব অমঙ্গল।
আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও পারিবারিক থানে যত্নে সাজানো দেখা গেছে দেবীর প্রতিমা। প্রদীপের শিখায় জ্বলে উঠেছে ভক্তির আলো। ফুল, নতুন ধান, ফলমূল আর ধূপ-দীপসহ পূজার নানা উপচারে সাজানো হয় দেবীর চরণ।
পুরোহিতের বেদমন্ত্র পাঠ, সংকল্প আর দেবীর উদ্দেশে উপাচার নিবেদনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় মূল আরাধনা। এরপর অঞ্জলির সময় দুই হাতে ফুল ও তুলসী পাতা নিয়ে পুরোহিতের সঙ্গে সমস্বরে মন্ত্র উচ্চারণ করেন ভক্তরা। দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন শেষে কেউ পরিবারের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি চেয়েছেন, কেউবা চেয়েছেন রোগ-শোকাগ্রস্ত জীবনের সংকট থেকে মুক্তি।
পূজায় আসা ভক্তদের কণ্ঠেও ফুটে ওঠে শুভ ও মঙ্গলের সেই আকুতি। এক পুণ্যার্থী বলেন, ‘প্রতিবছরই লক্ষ্মীপূজার জন্য আমরা বিশেষ অপেক্ষা করি। মায়ের কাছে একটাই চাওয়া–সংসারে যেন অন্ন-বস্ত্রের অভাব না হয়, সবাই যেন শান্তিতে থাকতে পারি।’
অন্য এক ভক্ত ঐতিহ্যের দিকটি তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের পরিবারে বংশানুক্রমিকভাবে যেভাবে পূজা হয়ে আসছে, আমরা তরুণ প্রজন্ম সেভাবেই নিয়মগুলো ধরে রাখার চেষ্টা করছি। কোজাগরী পূর্ণিমার এই তিথিতে আলপনা দেয়া থেকে শুরু করে প্রসাদ বানানো–সবটার মধ্যেই আমাদের ঐতিহ্য লুকিয়ে আছে।’
বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপূজার রীতিতে রয়েছে আঞ্চলিক ও পারিবারিক বৈচিত্র্য। তবে রীতির ভিন্নতা থাকলেও পূজা ঘিরে ঘরবাড়ির সাজসজ্জায় ফুটে ওঠে একই শুভ ও মঙ্গলের প্রত্যাশা। যুগের পর যুগ ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা এই সংস্কৃতিকে আজও পরম যত্নে ধরে রেখেছেন ভক্তরা।
প্রকৃতপক্ষে, লক্ষ্মীপূজার আবেদন শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবারের সব সদস্যের একসঙ্গে ঘর সাজানো, নাড়ু-পায়েস ও নানা পদের প্রসাদ প্রস্তুত করা এবং প্রতিবেশী ও স্বজনদের মাঝে তা বিলিয়ে দেয়া–সব মিলিয়ে এই পূজা পরিণত হয় এক পারিবারিক সম্প্রীতি ও মিলনের উৎসবে।