
রিয়াদে হুতিদের হামলার নিন্দা বাংলাদেশের, নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা
ইকরামুল কবির
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৮

সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির হবিগঞ্জের রশিদপুর কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্টে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির ট্যাংকলরি। এসব লরিতে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিন ও এলপিজি লোড করা হয়। পরে সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি নিজস্ব খরচে এসব জ্বালানি নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।
দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাসের সঙ্গে প্রতিদিন সাড়ে পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যায়। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দৈনিক সাত হাজার ব্যারেল পরিশোধন সক্ষমতাসম্পন্ন দুটি প্ল্যান্টের জন্য বরাদ্দ রয়েছে চার হাজার ৩৫০ ব্যারেল কনডেনসেট।
এই কনডেনসেট পরিশোধন করে দেশের পেট্রোলের দৈনিক চাহিদার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ, অকটেনের ৭ থেকে ৮ শতাংশ, কেরোসিনের ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের ১ শতাংশ উৎপাদন করছে সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি। পাশাপাশি প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে পাঁচ টন এলপিজি। সব মিলিয়ে দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ পূরণে ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ৫০০ ব্যারেল পেট্রোল, ৬০০ ব্যারেল অকটেন, ১০০ ব্যারেল কেরোসিন ও ১৫০ ব্যারেল ডিজেল উৎপাদন করা হয়। বিপিসির পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির মাধ্যমে এসব জ্বালানি বাজারজাত করা হয়।’
এদিকে, দেশের জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ ও ২০৩৫ সালে দুই ধাপে ৩০০টি গ্যাসকূপ খনন ও পুনঃখননের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর প্রথম ধাপে সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি একটি তেলকূপসহ ১৫টি কূপ খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা করেছে। এর মাধ্যমে বর্তমানে দৈনিক ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি আরও ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যুক্ত করার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে উপজাত হিসেবে বিপুল পরিমাণ কনডেনসেট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ পূরণে ভূমিকা রাখা ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্টগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘এ জন্য নতুন একটি ইউনিট স্থাপন করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এ বিষয়ে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। বর্তমান জায়গার মধ্যে নতুন ইউনিট স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে পাশের কিছু জায়গা নিতে হবে। কীভাবে এটি করা যায়, তা নিয়ে আমাদের লোকজন কাজ করছেন।’
অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলেট অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও কনডেনসেটের মজুত রয়েছে। এসব খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে কূপ খনন ও অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম ফরহাদ হাওলাদার বলেন, ‘গভীর কূপ খনন করতে হবে। যেসব বিদ্যমান কূপে তেল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো অনুসন্ধান করতে হবে। এভাবে অনুসন্ধান চালাতে পারলে বর্তমানে যে সরবরাহ রয়েছে, তা কিছুটা বাড়ানো সম্ভব বলে আশা করি।’
সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি বিপিসির কাছে প্রতি লিটার অকটেন ৯২ টাকা ২৬ পয়সা, পেট্রোল ৮৫ টাকা ২৬ পয়সা, ডিজেল ৮০ টাকা ৪৬ পয়সা এবং কেরোসিন ৮১ টাকা ৪৭ পয়সা দরে বিক্রি করছে। অথচ বর্তমানে বাজারে এসব জ্বালানির দাম যথাক্রমে অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা, ডিজেল ১৩৫ টাকা ও কেরোসিন ১৫৫ টাকা।
২০২৩ সালের ২৫ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত দামেই এখনো জ্বালানি তেল বিক্রি করছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)।