
সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে গুলিবিদ্ধ যুবকের মরদেহ উদ্ধার
প্রতিবেদক, রংপুর
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২১:১৯

প্রতীকী ছবি
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নসহ আশেপাশের ১০টি গ্রামে একটি পাগলা কুকুরের বেপরোয়া তাণ্ডবে মারাত্মক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কুকুরের কামড়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ আহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র ভয় ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (অক্টোবর) দুপুরের পর থেকে হঠাৎ করেই একটি উগ্র ও হিংস্র কুকুর শঠিবাড়ী শিশু নিকেতন এলাকা থেকে শুরু করে চিথলী মধ্যপাড়া, শীতলগাড়ী, রামপুরা ও চিথলী দক্ষিণ পাড়াসহ সংলগ্ন ১০টি গ্রামের বিভিন্ন সড়কে তাণ্ডব চালাতে শুরু করে। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারী, গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত নারী এবং মাঠে খেলাধুলা করা শিশুদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায় কুকুরটি। চোখের পলকে একের পর এক মানুষকে কামড়ে ও আঁচড়ে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে কুকুরটে। পরে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করলে কুকুরটি পালিয়ে যায়।
আহতরা হলেন- আল ফারুক, সেলিনা বেগম (৩৩), শীতলগাড়ী গ্রামের শিশু লাবিব (৫), লাবিব (২৫), শফিউল (৩২), হাসেম (২৮), ফাহিম (১৮), সানজিদা (১১) এবং মাসুদ রানা (২৭)। অন্য আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহত আল ফারুক বলেন, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ কুকুরটি লাফিয়ে এসে শরীরে কামড় বসিয়ে দেয়। এখন ছোট বাচ্চাদের ঘরের বাইরে পাঠাতে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। আশা করি প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর দ্রুত ব্যবস্থা নিবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কামিয়াবী দৃষ্টি বলেন, শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই কুকুরের কামড়ের শিকার হয়ে একের পর এক রোগী হাসপাতালে আসা শুরু করেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, অনেক রোগীর শরীরে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা, ক্ষতের পরিচর্যা এবং র্যাবিস (জলাতঙ্ক) প্রতিরোধী ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও ভ্যাকসিন রয়েছে, আমরা সর্বাত্মক সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের চিকিৎসক ডা. এম.এ হালিম লাভলু বলেন, হাসপাতালে ৩৫-৪০ জন রোগী কুকুরের কামড় নিয়ে আসেন। এর মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন, আশঙ্কাজনক ও গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের স্থানীয়ভাবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে মিঠাপুকুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগের। খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিচ্ছি। সাধারণত জলাতঙ্ক বা অন্য কোনো অসুস্থতার কারণে কুকুর এ ধরনের উগ্র আচরণ করে থাকে। ইউনিয়ন পর্যায়ে বেওয়ারিশ ও ক্ষতিকারক কুকুর নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।