
সিলেটে মুহূর্তেই উধাও ট্রেনের টিকিট, তদন্তে পিবিআই
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৫

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ বক্তৃতা করছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। ছবি: সংগৃহীত
গুলশান ও বারিধারার মতো বিশেষায়িত এলাকার লেক ও এর পাড় পরিবেশবান্ধব রাখা না গেলে সারা দেশ কীভাবে ঠিক করা যাবে–এমন প্রশ্ন তুলেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
তিনি বলেছেন, গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার পরিবেশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাধার রক্ষায় সরকার কাজ করছে। এমনকি হাতিরঝিল ও গুলশান-বারিধারার পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক বৈঠকও হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অভিজাত এলাকার অবকাঠামোগত ত্রুটির চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, গুলশান, বনানী ও বারিধারায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০টি বাড়িঘর রয়েছে। তবে এর একটি বড় অংশে ভবন নির্মাণের সময় সেফটি ট্যাংক ও সোকওয়েলের মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এমনকি অনেক নামি-দামি ডেভেলপারও ভবনের পয়োনিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা করেনি। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট আবাসিক সোসাইটিগুলোর সঙ্গে তিন-চার দফা আলোচনা করে সমন্বিতভাবে কাজ করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত নগর গড়ার লক্ষ্য নির্দিষ্ট কোনো এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। কারণ, একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মৌলিক সমস্যা সমাধান করা না গেলে বৃহত্তর পরিসরে পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করা কঠিন।
তিনি আরও জানান, নগর পরিকল্পনাকে কার্যকর করতে নগর উন্নয়ন অধিদফতরকে (ইউডিডি) শক্তিশালী করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে মেট্রোপলিটন, বড় শহর ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া উন্নয়নকে ‘লক্ষ্য ঠিক না করে তীর ছোড়ার’ সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, জোনিং নিশ্চিত করে তথ্যের ভিত্তিতেই উন্নয়ন করতে হবে। সঠিক পরিকল্পনার জন্য নতুন করে একটি পূর্ণাঙ্গ শুমারির প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
ভবন অনুমোদন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কথা জানিয়ে জাকারিয়া তাহের বলেন, আগে শুধু স্থাপত্য নকশার ভিত্তিতে অনুমোদন দেয়া হলেও এখন কাঠামোগত ও বৈদ্যুতিক নকশাসহ সব বিষয় সমন্বিতভাবে যাচাই করা হবে। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মিত হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও নকশাকারদের প্রত্যয়ন করার পরই কেবল ‘অকুপেন্সি সনদ’ দেয়া হবে। একই সঙ্গে রাজউকের আওতাধীন এলাকার বাইরে অনুমোদন ছাড়া নির্মিত ভবন চিহ্নিত করার কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।
কনক্লেভে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম। তিনটি সেশনে অনুষ্ঠিত এই কনক্লেভে আবাসন, নির্মাণ, জ্বালানি ও নগর পরিকল্পনা খাতের বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, বিএসএমএ সভাপতি ও জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, জিএমইএবি সভাপতি নাসিম বিশ্বাস, স্পেসজিরো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ, ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিমুল বাতেন এবং এবিসি রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রাবণী দত্ত। এ ছাড়া অন্যান্য সেশনে বক্তব্য দেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।