
বিদ্যুৎ বিভাগের ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার সহায়তা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৫৩

শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘চ্যালেঞ্জড স্টুডেন্টস কনভেনশনে বক্তব্যে রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়া ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতার মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি নতুন কর্মপদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘চ্যালেঞ্জড স্টুডেন্টস কনভেনশন ২০২৬’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, এসব শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী ভাষা শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক প্রাথমিক তহবিল এবং প্রয়োজনে তিন মাসের মধ্যে অকৃতকার্য বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগসহ একটি স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার।
গণস্বাক্ষরতা অভিযান এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষামন্ত্রী এবং সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। এবার এসএসসিতে প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভাগ্যের পরিবর্তন নিশ্চিত না করতে পারলে কোনো উন্নয়নই অর্থবহ হতে পারে না।’
তিনি জানান, যাদের কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণে আগ্রহ রয়েছে তাদের নিজ এলাকায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) সাথে যুক্ত করা হবে। কারো ভালো ব্যবসায়িক উদ্ভাবনী ধারণা থাকলে তাদের জন্য ছোট পরিসরে প্রাথমিক তহবিলের ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়া জাপানি, কোরিয়ান, চীনা ও ইউরোপীয় ভাষা শিক্ষার মতো ৩ থেকে ৬ মাসের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে সরাসরি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
এক বছর অপেক্ষা না করে অকৃতকার্য বিষয়ে ৩ মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘ইতোমধ্যে শিক্ষক ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এক বছরের বদলে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং আমরা সামনে এ বিষয়ে পরিবর্তন আনার ব্যাপারে আশাবাদী।’
শিক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে এরইমধ্যে পূর্ণাঙ্গ খাতা পুনঃনিরীক্ষণ চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল মেধার ঘাটতি নয়; আর্থিক অসঙ্গতি, শিক্ষক বা ক্লাসরুমের সংকট কিংবা পরীক্ষার আগে পারিবারিক সমস্যার কারণেও ফল খারাপ হতে পারে। সমন্বিত উদ্যোগে এসব সংকট কাটাতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মাহদী আমিন বলেন, এসএসসিতে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া মানেই জীবনের ব্যর্থতা নয়। সার্টিফিকেটের ওপর ভিত্তি করে জীবন বিচার করা যায় না। একটি বিষয়ে খারাপ করার কারণে কারো মেধা ও সৃজনশীলতা নষ্ট হয় না।
গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে গণস্বাক্ষরতা অভিযান কাউন্সিলের চেয়ারপারসন ড. ইরাম মরিয়ম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস ও ডা. আরিফুর রহমান বক্তব্য রাখেন। সূত্র বাসস