
বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
জিয়াউর রহমান বকুল, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৪২

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জমজমাট প্রচার-প্রচারণা। ছবি: সময় সংবাদ
দিন যত যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে উৎসবের আমেজ ততই বাড়ছে। জমজমাট প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনী সভা-সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিরোধীদলীয় প্রার্থী। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
উপনির্বাচনকে ঘিরে ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে জেলা শহরের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি, ১১ দলীয় জোটের পক্ষে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ কংগ্রেসসহ পাঁচটি রাজনৈতিক দলের পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় মূলত এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী। সকাল হলেই ভোটের মাঠে প্রচারণায় নামছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন। অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রচার চালাচ্ছেন ১১ দলীয় জোটের পক্ষে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন।
নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে গ্রামে। ভোটাররা বলছেন, সৎ ও যোগ্য প্রার্থী দেখেই তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনের পর যে জনপ্রতিনিধি এলাকার সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করবেন, তাকেই বেছে নিতে চান সাধারণ ভোটাররা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকারি দলের লোকজন নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনে একাধিক অভিযোগ দেয়া হলেও তারা কার্যত কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সবাই শঙ্কিত।’
তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ‘ভোটাররা ভোট দেয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তারা উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবেন। আশা করছি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।’
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়গুলো দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটরা দেখছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। ভোটগ্রহণের জন্য তিনটি উপজেলায় মোট ১৮৫টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।