
তাজমীনকে ধর্ষণ-হত্যার পর মসজিদের সামনের পুকুরে গোসল করে সুমন: পুলিশ
মনির হোসাইন
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৬

ঢাকার বাইরেও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে ডেঙ্গু। ছবি: সময় সংবাদ
সেপ্টেম্বর জুড়ে তাণ্ডব চালানোর পর অক্টোবরেও লাগামহীন ডেঙ্গু। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। চলতি মৌসুমে আক্রান্তের সংখ্যা এরইমধ্যে লাখ ছুঁই ছুঁই। মৃত্যুর সংখ্যাও তিনশর কাছাকাছি। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম আট দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে ১৪ হাজার মানুষ, মৃত্যু হয়েছে অর্ধশত জনের।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৪৫১ জনে।
গত পাঁচ বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এ রোগের প্রকোপ বেশি থাকে। কোনো কোনো বছর নভেম্বরে রোগীর সংখ্যা কমতে দেখা গেলেও এবার তেমন সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান আর্দ্রতা, মশার ঘনত্ব ও রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় কীটতত্ত্ববিদদের আশঙ্কা, এবার শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরেও নভেম্বর জুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরেও অনেক জেলায় পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যান্য বছর নভেম্বরে ডেঙ্গু রোগী কমে যায়। তবে চলতি বছর সেই সম্ভাবনা খুবই কম।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশা নিধনে শুধু সাধারণভাবে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালালে হবে না। যেসব স্থানে মশার প্রজনন হচ্ছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশনগুলো প্রচুর কাজ করছে। কিন্তু ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আমরা ঠিকভাবে করতে পারছি না। তাই নির্দিষ্ট স্থানকে লক্ষ্য করে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে।’
অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দাবি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুসরণ করেই চলছে মশক নিধন কার্যক্রম। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোথায় ও কখন ফগিং করতে হবে, সে বিষয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছে, আমরা সেভাবেই কাজ করছি। সিটি করপোরেশনের পক্ষে এই নগরের ১৮ থেকে ২৫-২৬ লাখ হোল্ডিংয়ের বাসাবাড়িতে গিয়ে বেসমেন্টে মশার প্রজননস্থল খুঁজে দেখা বাস্তবিক অর্থেই কঠিন কাজ।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও মশা নিধন কার্যক্রমে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পারলে এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।