
বিএনপির বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজা আগামীকাল সকাল ১১টায়
প্রতিবেদক, ফরিদপুর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৫০

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুদকের দুই দিনের অভিযান। ছবি: সময় সংবাদ
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাযন্ত্র ক্রয়ে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকার সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়মের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া চিকিৎসা সামগ্রী (এমএসআর) ক্রয় ও অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াসহ নানা খাতে ব্যাপক অব্যবস্থাপনার প্রমাণ মিলেছে।
টানা দুই দিন অভিযান শেষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
এর আগে সোমবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়।
দুদক জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে হাসপাতালের ক্যানসার ইউনিটের জন্য সাড়ে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে লিনিয়ার এক্সিলারেটর আনা হলেও তা আজও বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এছাড়া একই অর্থবছরে কার্ডিওলজি বিভাগে আট কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্যাথল্যাব স্থাপন করা হলেও তা চালু করা হয়নি। অথচ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি চালু না করেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তা জানান, চিকিৎসা সামগ্রী (এমএসআর) ক্রয়ে নথিপত্রের সঙ্গে মজুতের ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সিটিস্ক্যান ও এক্স-রে ফিল্ম সরবরাহ না করেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া হাসপাতালের চালু অ্যাম্বুলেন্সগুলোর গত এক মাসের ভাড়ার কোনো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের হয়রানি এবং দালাল চক্রের মাধ্যমে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানোর সত্যতাও মিলেছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অভিযানে সংগৃহীত সব রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণ করে অনিয়মে জড়িতদের দায় নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে এবং কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু বলেন, ‘দুদক কর্মকর্তাদের চাহিদামতো সব তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। যন্ত্রপাতি দুটি দীর্ঘদিন পড়ে থাকার বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। তবে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার তথ্য সঠিক নয় এবং চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।’