
সুনামগঞ্জে মাদক নিয়ে সংবাদ করায় সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৩৯

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মহাখালী শ্রী শ্রীরক্ষা কালিমন্দিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সময় সংবাদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজ আমার সনাতনী ধর্মের ভাই ও বোনদের কাছে একটি আমার চাওয়া। আসুন, এই দেশকে স্বাধীন করার জন্য, দেশের গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমরা যেমন ধর্ম দেখিনি, আমরা যখন জাত দেখিনি, ঠিক একইভাবে আগামী দিনে এই দেশকে যদি আমরা গড়ে তুলতে চাই, দেশ গড়ার সংগ্রামেও আমরা দেখব না ধর্ম। আমরা দেখব কে মানুষ, কে এই দেশের নাগরিক।
রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মহাখালী শ্রী শ্রীরক্ষা কালিমন্দিরে শুভেচ্ছা বিনিময়ে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সর্বজনীন অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু এইটুকু আমি আপনাদের কাছে বলতে চাই যে দেখুন, যে কথাটা আমি সবসময় বলি, যে কথাটা আমি বিশ্বাস করতে চাই, সে কথাটি হচ্ছে ১৯৭১ সাল, আমরা যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। যুদ্ধের ময়দানে কিন্তু আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। আমরা সকলে মিলে যারা এই দেশকে ভালোবাসি, প্রত্যেকটি মানুষ সে মুসলমান হোক, সে হিন্দু হোক, সে বৌদ্ধ হোক, সে খ্রিস্টান হোক মাঠে থেকে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছে।’
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পরে বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। জনগণ রাজপথে বেরিয়ে এসেছে তার ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। জনগণ রাজপথে বেরিয়ে এসেছিল তার কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। সেই রাজপথেও কিন্তু সকল ধর্মের মানুষ, সকল মতের মানুষ সেদিন উপস্থিত ছিল। সে সময়ও কিন্তু গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছি। এমনকি মাত্র আড়াই বছর আগের ঘটনা, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সেদিনও দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ বেরিয়ে এসেছিল। নর-নারী প্রতিটি মানুষ বেরিয়ে এসেছিল। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ বেরিয়ে এসেছিল। সেদিনও আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। আমরা জনগণের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছি, গণতন্ত্রের গণতান্ত্রিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছি সেদিন এবং জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেদিনকার গণঅভ্যুত্থানকে সফল করেছিল।’
নাগরিকদের সমান অধিকার ও ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমরা সকলে এখানে উপস্থিত প্রতিটি মানুষ আমরা হচ্ছি বাংলাদেশের মানুষ। এই দেশের ওপরে আপনার যেরকম অধিকার আছে, এই দেশের প্রতি আপনার যেমন দাবি আছে, এই দেশের ওপরে আমারও তেমন অধিকার আছে, আমারও একই রকম আপনার মতন দাবি আছে। কিন্তু সেই দাবিকে যদি প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, সেই অধিকারকে যদি প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, আমরা প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি পেশা, প্রতিটি ধর্মের মানুষ একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা এই দেশকে গড়ে তুলতে চাই।’
এর আগে বক্তব্যের শুরুতে পূজার শুভেচ্ছা ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখার কারণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আপনাদের আনন্দের সময়। আনন্দের দিন আজকে। আমি আসার সময় আমি দেখছিলাম যে বহু মানুষ এখানে আসার চেষ্টা করছে, এটি খুবই স্বাভাবিক। তবে এটাও আমি বুঝতে পারছি যে আমি আসার কারণে এখানে যেহেতু সিকিউরিটি সবকিছু মিলিয়ে এই বিষয়গুলার কারণে অনেক মানুষ এখনো খুব স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে পারছে না এখানে। সেজন্য আমি খুব বড় লম্বা বক্তব্য রাখব না। আমি চাই যে আমার সনাতনী ভাই বোনেরা তারা এখানে এসে, সনাতনী ধর্মের ভাই বোনেরা তারা এখানে এসে যাতে ওনারা আনন্দে পার্টিসিপেট করতে পারেন সেই সুযোগটি তৈরি করে দিতে চাই।’
বক্তব্যের শেষভাগে হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আসুন, দেশকে যদি আমরা গড়ে তুলতে পারি, আমরা প্রত্যেকটি মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারব। আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস, হাজার বছরের ঐতিহ্য হচ্ছে আমরা সকল ধর্মের মানুষ শান্তিতে দেশে বসবাস করেছি। কাজেই আগামী হাজার বছরও যাতে আমরা প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষ একসাথে শান্তিতে বসবাস করতে পারি এই হোক আমাদের প্রত্যাশা, এই হোক আমার আশা।’