
ফ্যামিলি কার্ড দেবে বলে বিধবার টিপসই নেন ‘জামায়াতকর্মী’, পরে গ্রামে ছড়ায় বিয়ের খবর
প্রতিবেদক, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪২

চুয়াডাঙ্গা সরকারি শিশু পরিবারের কার্যক্রমের একাংশ। ছবি: সময় সংবাদ
চুয়াডাঙ্গা সরকারি শিশু পরিবারে অর্ধেকের কম জনবল ও জরাজীর্ণ ভবনসহ নানা সমস্যা থাকলেও স্বাভাবিকভাবেই চলছে এর কার্যক্রম। গত কয়েক মাসেই প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা দূর হয়েছে। তবে বর্তমানে আসনের তুলনায় ৬৫ শতাংশ কম নিবাসী রয়েছে।
জানা যায়, এর আগে শিশু পরিবারটির দায়িত্বে থাকা তৎকালীন উপতত্ত্বাবধায়ক রোম্মানা বিলকিস একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে এটিকে নানা অনিয়মের আখড়ায় পরিণত করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তার স্বামী নোমান নিজেই ঠিকাদার নির্বাচন, নিবাসীদের খাবার, পোশাক, চিকিৎসাসহ সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেন। সমাজসেবা কর্তৃপক্ষ বলছে, আগে অনিয়ম থাকলেও বর্তমানে তা দূর করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে কাজ চলছে।
১৯৭৩ সালে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড পাড়ায় ২.৬২ একর জমির ওপর গড়ে ওঠে সরকারি শিশু পরিবার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সঙ্গে চললেও মাঝে কয়েক বছর উপতত্ত্বাবধায়কের একক নিয়ন্ত্রণের কারণে অভ্যন্তরীণ জটিলতা তৈরি হয়েছিল। কয়েক মাস আগে শিশু পরিবারের সব স্টাফকে একযোগে বদলির পর পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুকূলে এসেছে। বর্তমানে নতুন নিবাসী ভর্তি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
শিশু পরিবারটিতে লোকবল সংকট, জরাজীর্ণ ভবন, নিবাসী হ্রাসসহ নানা সমস্যা রয়েছে। ১৭টি পদের বিপরীতে ১০টি পদই শূন্য। শূন্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে- উপতত্ত্বাবধায়ক ১টি, সহকারী তত্ত্বাবধায়ক ১টি, সহকারী শিক্ষক ২টি, মেট্রন কাম নার্স ১টি, খালাম্মা ২টি পদের মধ্যে ১টি, অফিস সহায়ক ৫টি পদের মধ্যে ২টি ও বাবুর্চি ২টি। বর্তমানে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ১ জন, কম্পাউন্ডার ১ জন এবং কারিগরি প্রশিক্ষক ১ জন দায়িত্ব পালন করছেন।
শিশু পরিবারের নিবাসীদের প্রত্যেকের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রসাধনী ও প্রশিক্ষণ বাবদ প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ হলেও তা দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। শিশু নিবাসে ৯০ জন শিশু ও ১০ জন প্রবীণের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বসবাস ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অফিস ভবন, অফিসার্স কোয়ার্টার, স্টাফ কোয়ার্টার, গার্ডরুম, পাম্প ঘর ও রান্নাঘর। নিবাসীদের চারতলা বিশিষ্ট ডরমিটরি ভবন, ট্রেনিং সেন্টার ও হলরুম ব্যবহারের উপযোগী রয়েছে। ১০০ জন নিবাসীর মধ্যে বর্তমানে শিশু পরিবারে মাত্র ৩৫ জন শিশু নিবাসী রয়েছেন; কোনো প্রবীণ নিবাসী নেই।
শিশু পরিবারের নিবাসীরা জানান, এর আগে শিশু পরিবারে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি ছিল। ঠিকমতো খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিস দেয়া হতো না। বাবুর্চির কাজগুলোও নিবাসীদের করতে হতো। এছাড়া অন্যান্য অতিরিক্ত কাজ করানো হতো। কাজ করার নিয়ম না থাকলেও আগের উপতত্ত্বাবধায়কের সময় সেগুলো জোর করে করানো হতো। আট বছর ধরে এসব জুলুম-নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। অবশেষে এসব সহ্য না করে সবাই মিলে প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
নিবাসীরা আরও জানান, বাবুর্চি ও উপতত্ত্বাবধায়ক এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা বদলি হয়ে গেছেন। তারা বদলি হওয়ার পর পরিস্থিতি এখন অনেক শান্ত। বর্তমানে যে স্টাফরা আছেন, তাদের আচরণে নিবাসীরা মুগ্ধ। এখন খাবার, পোশাক, চিকিৎসাসহ সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন তারা। বরাদ্দের ভেতর থেকেই তাদের চাহিদা সুন্দরভাবে পূরণ হচ্ছে।
শিশু পরিবারে আসা অভিভাবকরা জানান, শিশু পরিবারের বর্তমান কার্যক্রম দেখে তারা সন্তুষ্ট। আগে নানা ধরনের সমস্যা বিদ্যমান ছিল। কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতায় সব সমস্যা দূর হয়েছে। এতিম শিশুরা বাবা-মা ছাড়াই শিশু পরিবারে বেড়ে ওঠে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা শিশু পরিবারের সাবেক উপতত্ত্বাবধায়ক রোম্মানা বিলকিসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। জানা গেছে, তিনি চিকিৎসার জন্য বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আয়নাল হক জানান, নিবাসী সংগ্রহের চেষ্টা চলমান রয়েছে। সবাইকে সম্পৃক্ত করে প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত আছে। ইতিপূর্বে ছোটখাটো ত্রুটি ছিল। সমস্যাগুলো কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আসার পর সমাধানের চেষ্টা চলছে। লোকবল ও ভবনের যে সমস্যা আছে, সেগুলো অল্প সময়ে সমাধান হয়ে যাবে।