
কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যঅস্ত্র হাতে পথচারীদের জিম্মি করে ছিনতাই, আতঙ্কে মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের বাসিন্দারা
সঞ্জয় কর্মকার অভিজিৎ, মাদারীপুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩১

খাবারের অভাবে বাসা-বাড়িতে ঢুকে পড়ছে বানর। ছবি: সময় সংবাদ
একসময় অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত এলাকায় থাকার কথা থাকলেও মাদারীপুরের বানরগুলো এখন ছড়িয়ে পড়ছে লোকালয়ে। খাবারের সন্ধানে কখনো ফলের গাছে, আবার কখনো ঘরের চালে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দল বেঁধে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ঘুরছে বানরগুলো। পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে হানা দিচ্ছে বাসাবাড়িতেও। এতে তাদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বাসিন্দারা।
তথ্য অনুযায়ী, মাদারীপুরের নয়াচর ও চরমুগরিয়া একসময় বানরের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু খাদ্য সংকট ও ঘনবসতির কারণে কমে গেছে প্রাণীগুলোর সংখ্যা। সরকারিভাবে বানরের জন্য খাবার বরাদ্দ থাকলেও ২০২৫ সালের জুন থেকে তা বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় প্রাণীপ্রেমী কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার দিচ্ছেন।
তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় মানুষের ওপর বানরের উৎপাত বাড়ছে। টানা ১৬ মাস ধরে ক্ষুধার তাড়নায় খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ানো বানরের দল স্থানীয়দের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বানর খাবার না পাওয়ায় আমাদের ওপর আক্রমণ করছে। দিন দিন এই উৎপাত বেড়েই চলছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।’
নতুন শহরের ছাপাখানার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বানর এখন বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ছে। বানরের যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ। ঘরে ও বাইরে খাবার দেখলেই হানা দেয়। খাবার ছিনিয়ে নেয় বানরের দল।’
সামাজিক বন বিভাগ জানায়, মাদারীপুর পৌরসভার চরমুগরিয়ার কালিবাড়ি, স্বর্ণকারপট্টি, জেটিসি, আদমজী, চৌরাস্তা, নদীর পাড় ও কুলপদ্বীসহ বিভিন্ন এলাকায় একসময় প্রায় আট হাজার বানর ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজারে।
এদিকে, বানরের জন্য পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশভিত্তিক সংগঠনের নেতারা। তাদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই প্রাণীকে টিকিয়ে রাখা জরুরি।
মাদারীপুরের পরিবেশভিত্তিক সংগঠন ফ্রেন্ডস অব নেচারের নির্বাহী পরিচালক রাজন মাহমুদ বলেন, ‘দিনে দিনে বানরের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই প্রাণী খুবই প্রয়োজন। কিন্তু এটি বোঝার কোনো মানুষ সমাজে নেই। সরকারিভাবেও দেখভাল করছে না কেউ। সরকারের কাছে দাবি, বিলুপ্ত হতে যাওয়া গেছো প্রাণীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হোক।’
সামাজিক বন বিভাগ জানায়, বানরের খাবারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে বারবার আবেদন করা হলেও এখনো তা পাওয়া যায়নি। সামাজিক বন বিভাগ মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘মাদারীপুর অফিস থেকে বারবার চিঠি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো বরাদ্দই আসছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য আবারও লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হবে। বানরের খাবারের বরাদ্দ এলে দ্রুত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে যথাযথভাবে খাবার সরবরাহ করা হবে।’