
সিজারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই, ৬ মাস পর নার্সের মৃত্যু
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৬

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের মরদেহ পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারি। ছবি: সময় সংবাদ
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১১টায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২৩৬ ফ্লাইটে সরাসরি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে তাদের মরদেহ।
মরদেহ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। দীর্ঘদিন পর আপনজনকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলো মুহূর্তেই শোকে ডুবে যায়।
নিহত প্রবাসী দুজনের বাড়িই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামে। শুধু একই গ্রামের বাসিন্দাই নন, পরস্পরের প্রতিবেশীও ছিলেন তারা। জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছিলেন হাজার মাইল দূরের সৌদি আরবে। স্বপ্ন ছিল প্রবাসের কষ্ট শেষে একদিন আপনজনের কাছে ফিরবেন। কিন্তু ফিরলেন ঠিকই, তবে জীবিত নয়, কফিনবন্দি হয়ে।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ দুটি নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাদ আসর গাছবাড়ির আকুনি মাদরাসায় দুই প্রবাসীর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে নিজ গ্রামেই পাশাপাশি শেষ ঠিকানায় শায়িত হবেন তারা।
কানাইঘাট উপজেলার ৭ নম্বর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন জানান, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে দাফন-কাফনের খরচ হিসেবে নিহত দুই প্রবাসীর পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে আবদুল করিমের স্বজনদের হাতে ৩৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে কাগজপত্রে ঘাটতি থাকায় খালিদ আহমদের পরিবারের হাতে তাৎক্ষণিকভাবে চেক দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে তার পরিবারও এ সহায়তা পাবে। পরবর্তীতে সরকার বাকি অনুদান দ্রুতই পরিবারকে দেবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
গত ৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আবদুল করিম ও খালিদ আহমদ।