
চকবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিট
প্রতিবেদক, কক্সবাজার
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২১:১৩

সমুদ্রপথে বিশ্ব ভ্রমণের স্বপ্ন নিয়ে নিউজিল্যান্ডের জন এডওয়ার্ড-এর পরিবারের ৪ সদস্য ২০২৪ সালে টুরিস্ট ভিসা নিয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশে আসেন। নিজস্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা কক্সবাজারের উপকূলে বাঁকখালীর নদীর তীরে তৈরি করেছিলেন অভিজাত-সৌখিন নৌ-যান ‘আইল্যান্ড গার্ল’। আর সেই নৌ-যানে সমুদ্রপথে বিশ্ব ভ্রমণ করে দেশে ফেরার কথা ছিল তাদের।
কিন্তু না সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। গত ২৫ আগস্ট কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর মোহনা সংলগ্ন নাজিরারটেক এলাকাবর্তী সাগরে ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নামের জোড়া বোট ডুবি যায়। ওই সময় নিউজিল্যান্ডের ওই পরিবারের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও কিশোর আলবার্ট নিখোঁজ ছিলো। যার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে পরের দিন।
স্বপ্নভঙ্গের দেড় মাস পেরিয়ে নানা আইনি প্রক্রিয়া, পার্সপোর্ট-ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া জটিলতা দূর করে সেই পরিবারের ৩ সদস্য দেশে ফিরছে শুক্রবার মধ্যরাতেই আকাশ পথে। ৩ জন হলেন: জন এডওয়ার্ড, তার স্ত্রী বেলা (৩৬) ও ছেলে রালফ (১৩)।
তবে বাঁকখালী নদীর তীরে পড়ে আছে সমুদ্রপথে বিশ্ব ভ্রমণের জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরির পর বিধ্বস্ত হওয়া স্বপ্নের নৌ-যান ‘আইল্যান্ড গার্ল’। নদীর খুব নিকেটের একটি শ্মশানে রেখে যাচ্ছেন কিশোর সন্তান আলবার্ট (১৬) দেহাবশেষ।
গত ২৫ আগস্ট বোট ডুবির ঘটনার পর জীবিত ৩ জনই ছিলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে। দেড় মাস ধরে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোটেল শৈবালে অবস্থান নিয়েছিলেন তারা। তাদের নিরাপত্তার জন্য সেখানে পুলিশও মোতায়েন করা ছিল।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান জানান, পরিবারের তিন সদস্যের দেশে ফেরার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
তিনি জানান, নৌকাডুবির সময় পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কিছু নথি হারিয়ে যায়। ফলে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করাও সহজ ছিল না। বাংলাদেশে নিউজিল্যান্ডের কোনো দূতাবাস না থাকায় শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত নিউজিল্যান্ডের দূতাবাসের সঙ্গে অনলাইন ও ভার্চ্যুয়াল যোগাযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়।