
‘হ্যালো ডিসি’তে অভিযোগ: ঢাকার ৪ উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪৬

সোমবার (১২ অক্টোবর) বরিশালের বাবুগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় থানা হেফাজতে নেয়া হচ্ছে দুই যুবককে। ছবি: সময় সংবাদ
বরিশালের বাবুগঞ্জে তামান্না আক্তার ঐশী (২৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ও তার ছোট ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুম বিল্লাহ।
নিহত ঐশী বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর সাধুকাঠী গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের মেয়ে। প্রায় ১০ মাস আগে একই উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামের কাদের খানের ছেলে সোহেল খানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়েছিল।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের প্রথম কয়েকমাস সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চললেও হঠাৎ করেই সোহেল ঐশীর ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। প্রায়শই তাকে মারধর করা হতো।
নিহতের চাচা মো. সোহেল জানান, সোহেলের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর তিনি ঐশীকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু কয়েকমাস আগে থেকে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে সোহেলের পুনরায় যোগাযোগ শুরু হয়। এরপর থেকেই প্রতিদিন ঐশীকে মারধর করা হতো।
নিহতের বড় বোনের স্বামী ফয়েজ রহমান জানান, ঐশীকে মারধরের ঘটনায় আমরা একাধিকবার প্রতিবাদ করলেও কোনো সুরাহা হয়নি। তাকে নিজেদের কাছে নিয়ে এলেও আবার ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন শুরু করা হতো। শেষ পর্যন্ত তাকে দুনিয়া থেকেই বিদায় হতে হলো।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঐশীকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বামী সোহেল। পরবর্তীতে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে এম মনিরুল ইসলাম জানান, ঐশীকে হাসপাতালে মৃত অবস্থাতেই আনা হয়েছিল। তর কপালে ও চোখে আঘাতের কালচে দাগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাথায় আঘাতজনিত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী সোহেল খান ও তার ছোট ভাইকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’