
বঙ্গোপসাগরে টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশে ঢাকায় বিমরাডের কর্মশালা
ইকরামুল কবির, সিলেট
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১৩

সিলেট গ্যাস ফিল্ড। ফাইল ছবি
দেশের জ্বালানি তেলের মোট চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ জোগাড় হচ্ছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) থেকে। বর্তমানে দুটি প্ল্যান্টের মাধ্যমে গ্যাসক্ষেত্র থেকে উপজাত হিসেবে পাওয়া ‘কনডেনসেট’ পরিশোধন করে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিন ও এলপিজি তৈরি করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এর উৎপাদন বহুগুণে বাড়বে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এসজিএফএল সূত্রে জানা যায়, সিলেট গ্যাস ফিল্ডের আওতাধীন হবিগঞ্জের রশিদপুর কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট থেকে পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীন পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির ট্যাংকলরিতে এসব তেল ভর্তি করে পৌঁছে দেওয়া হয়।
দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে প্রতিদিন সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যায়। এর মধ্যে দৈনিক সাত হাজার ব্যারেল পরিশোধন সক্ষমতার এসজিএফএল-এর দুটি প্ল্যান্ট বরাদ্দ পায় ৪ হাজার ৩৫০ ব্যারেল কনডেনসেট।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন জানান, প্রাপ্ত কনডেনসেট পরিশোধন করে দৈনিক চাহিদার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পেট্রোল, ৭-৮ শতাংশ অকটেন, ৭ শতাংশ কেরোসিন ও ১ শতাংশ ডিজেল জোগান দিচ্ছে এসজিএফএল। ফলে পেট্রোলিয়াম পণ্যের সার্বিক জাতীয় চাহিদার প্রায় অর্ধেকই মিটছে এখান থেকে। পাশাপাশি প্রতিদিন ৫ টন এলপিজিও উৎপাদিত হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, 'সরকার ২০৩১ ও ২০৩৫ মেয়াদে দুই ধাপে ৩০০টি কূপ খনন ও পুনঃখননের বড় উদ্যোগ নিয়েছে। এর প্রথম ধাপে একটি তেলকূপসহ ১৫টি কূপ খননের কাজ চলছে। এ থেকে নতুন ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সঞ্চালন লাইনে যুক্ত হলে প্রচুর পরিমাণ বাড়তি কনডেনসেট পাওয়া যাবে। সেটি মাথায় রেখেই রশিদপুর প্ল্যান্টের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।'
বিষয়টি নিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম ফরহাদ হাওলাদার জানান, সিলেট অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণ গ্যাস ও কনডেনসেটের মজুত রয়েছে। এই সম্পদ পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে কূপ খননের নতুন ও আধুনিক কৌশল গ্রহণ করা জরুরি।
এদিকে ২০২৩ সালের ২৫ জুনে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নির্ধারিত দর বজায় রেখে বিপিসির কাছে তেল বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে এসজিএফএল।