
সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে গুলিবিদ্ধ যুবকের মরদেহ উদ্ধার
প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:২

কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে চলছে সংস্কারকাজ। ছবি: সময় সংবাদ
কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়ক সংস্কারে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সুষ্ঠু নজরদারি না থাকায় দায়সারাভাবে চালানো হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটির মেরামতকাজ। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে বর্তমানে রাস্তার সংস্কারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে সড়ক বিভাগ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কটিয়াদী উপজেলার পুলেরঘাট বাজার থেকে পিরিজপুর বাজার পর্যন্ত ‘মেজর রিপেয়ারিং’-এর অংশ হিসেবে চার কিলোমিটার সড়কের চারটি স্থানে মেরামতকাজ শুরু হয়। এর মধ্যে পুরোনো ও নষ্ট হয়ে যাওয়া কার্পেটিং তুলে ফেলে নতুন করে ইট, বালি ও পাথর দিয়ে সড়ক সংস্কার এবং ৩০০ মিটার সড়ক ঢালাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। ৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কের মাত্র চার কিলোমিটার অংশ মেরামতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ২২ লাখ টাকা। আগামী বছরের ১২ এপ্রিলের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এ কাজের জন্য ‘সাগর ইনফো বিল্ডার্স’ নামের ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেলেও মহাসড়ক সংস্কারে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত অত্যন্ত নিম্নমানের ইট, বালি ও পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আগের নষ্ট হয়ে যাওয়া সড়কের পুরোনো আস্তর বা ঢালাই সঠিকভাবে না তুলে তার ওপরই তড়িঘড়ি করে নতুন ঢালাই বসিয়ে দেয়া হচ্ছে। তদারকি কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষের যথাযথ উপস্থিতি না থাকায় ঠিকাদার মনগড়াভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) গোপালচন্দ্র সরকারের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠালেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সওজ কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের প্রতিনিধির উপস্থিতিতেই নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই করে তা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হয়। তবে প্রকল্পের কিছু অংশে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সত্যতা স্বীকার করে কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের পর ইতোমধ্যে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সংস্কারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।